তৃণমূল ছাড়লেন ২০ সাংসদ, সুদীপকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

সংগৃহীত ছবি
ভারতীয় রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ একযোগে এনসিপিআই-তে(ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া) যোগ দিয়েছেন। এতে করে তৃণমূল শিবিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। এই দলত্যাগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম বর্ষীয়ান সাংসদ তথা লোকসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দলবদলের পর থেকেই ক্ষোভ এবং পাল্টা অভিযোগের ঝড় উঠেছে দলের ভেতরে।
দলীয় সূত্রের দাবি, একসঙ্গে এতজন সাংসদের দলত্যাগ প্রভাব ফেলতে পারে সংসদীয় রাজনীতিতে। এর প্রভাব পড়তে পারে তৃণমূলের অবস্থানের উপরও। সেই কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছে দিল্লি এবং কলকাতা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু সাংগঠনিক নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতেও।
এরই মধ্যে সোমবার সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, কিছুদিন আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার্তা পাঠিয়ে নতুন গাড়ি কেনার জন্য আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন দলের কাছে। কুণালের অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায় বিপুল সম্পত্তির উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও দলের কাছ থেকে অর্থ চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলবদলের আগে বা পরে অন্য কোনও সুবিধা বা প্রতিশ্রুতির বিনিময় হয়েছে কি না।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন দলের আরও নেতারাও। এক তৃণমূল সাংসদের দাবি, দিল্লিতে ব্যবহৃত পুরনো গাড়ি বদলের অনুরোধ করা হলেও তা মেনে নেয়নি দলীয় নেতৃত্ব। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলার চাপ এড়াতেই সুদীপ নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। তার বক্তব্য, অতীতে কঠিন সময়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলদল। কিন্তু সেই আস্থার মর্যাদা রাখেননি তিনি। রোজভ্যালি মামলার সময়কার ঘটনাও টেনে এনে সুদীপের সমালোচনা করেন মহুয়া মৈত্র। মহুয়ার কথায়, এবারও অসুস্থতার মিথ্যা নাটক করে দিল্লি গিয়ে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাপস রায় এবং কুণাল ঘোষ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে একদম ঠিক কথাই বলতেন বলে মত তার।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এখনও। তবে ২০ সাংসদের দলত্যাগ এবং তা ঘিরে প্রকাশ্যে আসা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে তৃণমূলের অন্দরে যে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
অন্যদিকে এনসিপিআইয়ের একাধিক নেতা থাকেন ত্রিপুরাতে। তাদের মধ্যে অন্যতম জহিরুল ইসলাম। তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' সাংসদদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।





