‘ভারতকে নৈরাজ্য থেকে বাঁচান, ২৭ দেশের ৪০০ ভারতীয় গবেষকের দাবি

ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি জনসাধারণের আস্থা দুর্বল করার চেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রাক্তনীরা। ‘স্পেয়ার ইন্ডিয়া ফ্রম অ্যানার্কি’ (ভারতকে নৈরাজ্য থেকে বাঁচান) শীর্ষক একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ২৭টি দেশের ৪০০-রও বেশি গবেষক । চারটি মহাদেশে ছড়িয়ে থাকা এই স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বের একাধিক প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রাক্তনীরা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর সাত দশকেরও বেশি সময়ে ভারতীয় গণতন্ত্র বার বার তার স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ দিয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি বিকশিত হয়েছে, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা কার্যকর থেকেছে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে লাগাতার প্রশ্ন তোলা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি করা এবং সংসদীয় পদ্ধতির বদলে রাস্তায় আন্দোলনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাদের।
স্বাক্ষরকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনে প্রতিকূল ফলাফল এলে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আদালতের প্রতিকূল রায় সামনে এলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকি রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত, এমন প্রতিষ্ঠান,সশস্ত্র বাহিনীকেও দলীয় রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
বিবৃতিতে সংবিধান প্রণেতা বি আর অম্বেডকরের বক্তব্যও স্মরণ করানো হয়েছে। সাংবিধানিক পদ্ধতির উপর আস্থা রাখা এবং বিপ্লবের হিংসাত্মক পথ পরিহারের যে বার্তা অম্বেডকর দিয়েছিলেন, তা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তাঁরা। তাদের বক্তব্য, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার অজুহাতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেই দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও প্রতিবাদের গুরুত্ব তারা অস্বীকার করছেন না। বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক মতপার্থক্য মেটানোর জন্য বিতর্ক, আলোচনা, সংলাপ এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদের উপর জোর দিয়েছেন স্বাক্ষরকারীরা।
আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, সিঙ্গাপুর-সহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে রয়েছে এমআইটি, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড, প্রিন্সটন, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, কলম্বিয়া, লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়।



