আইআইটি-জেইইতে সুযোগ পাননি, ২৬ বছরেই বাবাকে দিলেন ৫৫ লাখের বিএমডব্লিউ

৫৫ লাখ রুপি মূল্যের বিলাসবহুল বিএমডব্লিউর সামনে শৌর্য শিখর। ছবি : সংগৃহীত
ব্যর্থতা মানেই কি জীবনের শেষ, নাকি নতুন কোনো শুরুর ইঙ্গিত? জীবনের এক চরম হতাশার অধ্যায় পার করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ২৬ বছর বয়সী শৌর্য শিখর।
একসময় যে তরুণ নিজেকে পুরোপুরি ব্যর্থ ভাবতেন, তিনিই আজ সফল উদ্যোক্তা। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই বাবাকে উপহার দিয়েছেন ৫৫ লাখ রুপি মূল্যের বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি।
সম্প্রতি জনপ্রিয় উদ্যোক্তা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর অঙ্কুর ওয়ারিকু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৌর্যের এই অনুপ্রেরণামূলক জীবনযুদ্ধের গল্প শেয়ার করেছেন। পর তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগের কথা। শৌর্য তখন এক চরম ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ভারতের অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ আইআইটি-জেইই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি।
এই ব্যর্থতা তার বুকে আরও ভারী হয়ে চেপে বসেছিল। কারণ তার বাবা নিজেই ছিলেন একজন আইআইটির সাবেক ছাত্র। বাবার মতো হতে না পারার এই হতাশা শৌর্যকে তীব্র আত্মবিশ্বাসের সংকটে ফেলে দেয়।
প্রকৌশলে পড়ার সুযোগ না পেয়ে তিনি বিবিএ ডিগ্রিতে ভর্তি হন। কিন্তু কলেজের দিনগুলোকে তিনি ঘৃণা করতেন। মানসিক চাপের পাশাপাশি তার শারীরিক অবস্থারও চরম অবনতি ঘটে। ওজন গিয়ে ঠেকে ১১০ কেজির ওপরে।
সব মিলিয়ে নিজের ক্যারিয়ার, পড়াশোনা আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এতটাই অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন, যা নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অঙ্কুর ওয়ারিকু লিংকডইন পোস্টে শৌর্যের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে লিখেছেন, ‘সে আইআইটি-জেইই পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিল। এটি তাকে চরম এক ব্যর্থতার অনুভূতি দেয়। বিশেষ করে তার বাবা আইআইটির সাবেক ছাত্র ছিলেন, সেটার স্মরণ তাকে আরও বেশি পীড়া দেয়।’
‘এর ওপর সে ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়ে বিবিএ শুরু করে। ওজন হয়ে যায় ১১০ কেজির বেশি। তার মনে হতো, সে বাবা-মাকে হতাশ করেছে। নিজের কলেজকে ঘৃণা করত। সে নিশ্চিত ছিল, তার জীবন দিয়ে আর কিচ্ছু হবে না’, পোস্টে যোগ করেন ওয়ারিকু।
কলেজজীবনের এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় শৌর্য যুক্ত হন অঙ্কুর ওয়ারিকুর টিমের সঙ্গে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবনের মোড় পরিবর্তন। অঙ্কুর মনজি ডটকো নামে একটি প্রাইভেট ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা।
শত হতাশার মধ্যেও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং নিজেকে নতুন করে গড়তে প্রতিদিন একটু একটু করে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
পাঁচ বছর পর আজ ২৬ বছর বয়সে শৌর্যের জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। তিনি এখন একজন সফল পেশাদার কর্মী। প্রতি মাসে তার আয় সাত অঙ্কের ঘরে।
সম্প্রতি বাবার অবসরের উপহার হিসেবে তিনি ৫৫ লাখ রুপির একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন।
আর্থিক এই সাফল্যের পাশাপাশি শৌর্য তার স্বাস্থ্যের দিকেও সমান নজর দিয়েছেন। ১১০ কেজির বেশি ওজনের সেই তরুণ কঠোর পরিশ্রমে নিজের ফিটনেস ফিরিয়ে এনেছেন। বর্তমানে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে সুস্থ ও ফিট অবস্থায় রয়েছেন।
অঙ্কুর ওয়ারিকু স্পষ্ট করেছেন, এই গল্পটি কেবল অর্থসম্পদ, বিলাসবহুল গাড়ি বা আর্থিক মাইলফলক অর্জনের নয়। এটি আসলে একটি স্মারক, সাময়িক কোনো ধাক্কা বা ব্যর্থতা কখনোই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গল্পটি হাজার হাজার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই নিজেদের জীবনের অনিশ্চয়তা ও হতাশার দিনগুলোর সঙ্গে শৌর্যের এই লড়াইয়ের মিল খুঁজে পেয়েছেন।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, যখন কেউ জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করে, তখন মিথ্যা আশাবাদের চেয়ে নিজের কাজ করে যাওয়াটাই আসল শক্তি দেয়। শৌর্যের এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ী।
সূত্র : এনডিটিভি








