কলকাতায় ফিরছে হলুদ ট্যাক্সির নতুন অধ্যায়

সংগৃহীত ছবি
কলকাতাকে চিনতে গেলে শুধু ভিক্টোরিয়া, হাওড়া ব্রিজ বা ট্রামের কথা বললেই হয় না। এই শহরের আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও এক আবেগ—হলুদ ট্যাক্সি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কলকাতার মানুষকে বয়ে নিয়ে চলা সেই ট্যাক্সিই এবার পেতে চলেছে নতুন জীবন।
দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে কলকাতার হলুদ ট্যাক্সির বৈদ্যুতিক সংস্করণ। সম্প্রতি ডিভিসির কলকাতা সদর দপ্তরে এই ‘সবুজ-হলুদ’ ট্যাক্সির প্রোটোটাইপ উন্মোচন করা হয়েছে। শহরের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রকল্পে।
একসময় কলকাতার রাস্তায় হাজার হাজার হলুদ ট্যাক্সি ছুটত। মূলত হিন্দুস্তান মোটরসের অ্যাম্বাসাডর গাড়িকেই ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ষাটের দশক থেকে ধীরে ধীরে এই গাড়ি শহরেরই অন্যতম অংশ হয়ে ওঠে। বাংলা সিনেমা, উপন্যাস, কবিতা এমনকি বিদেশি পর্যটকদের স্মৃতিতেও জায়গা করে নেয় কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি।
ক্রমেই অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবার আগমন, পুরনো গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি, দূষণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং অ্যাম্বাসাডর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে দ্রুত কমতে শুরু করে হলুদ ট্যাক্সির সংখ্যা। শহরের মানুষও ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে এক চেনা দৃশ্য।
এই পরিস্থিতিতেই আশার আলো দেখাচ্ছে নতুন উদ্যোগ। জানা গেছে, পুরনো ট্যাক্সির মূল কাঠামো ও ট্রান্সমিশনের বড় অংশ অক্ষুণ্ণ রেখেই তাকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ফলে পুরনো গাড়ি বাতিল না করেই নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়া যাবে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, তেমনই কমবে জ্বালানির খরচও।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্তের নেতৃত্বে গবেষকরা এই প্রকল্পে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার ডিভিসির চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার এই বৈদ্যুতিক হলুদ ট্যাক্সির প্রোটোটাইপের উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য অতিথি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বললেন, ‘এই পুরনো হলুদ ট্যাক্সিগুলো ইভিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। ওই হলুদ ট্যাক্সিগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। সেগুলোকে আমরা ইভিতে রূপান্তর করলে অনেকটাই সুবিধা এবং সাশ্রয় হবে।’
কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি বহুদিন ধরেই একটু একটু করে বিলুপ্তির দিকে হাঁটছিল। কিন্তু প্রযুক্তির হাত ধরে সেই স্মৃতিই এবার ফিরে আসতে পারে নতুন রূপে।






