শেষের পথে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ, বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া নেই ভারতের

ফাইল ছবি
ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আলোচনায় বসার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ভারত।
সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ জুন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য নয়াদিল্লিকে অনুরোধ পাঠায় ঢাকা। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতিতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করেছে বাংলাদেশ।
ভারতের সরকারি সূত্রের দাবি, দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমেই চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময় নির্ধারণের পর বৈঠকের দিন ঠিক করা হবে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিতে সই করেন। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা ব্যারাজে পানির প্রবাহের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন করা হয়। ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত পানির প্রবাহের তথ্যের ভিত্তিতে এ বণ্টন সূত্র নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে দুই দেশ প্রায় সমান হারে পানি পায়। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি রেখে বাকি অংশ বাংলাদেশকে দেয়। তবে ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে দুই দেশই পর্যায়ক্রমে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়।
চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত ২ জুন এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, নদীসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো রয়েছে। পানি ও আন্তঃসীমান্ত নদীসংক্রান্ত সব বিষয় ওই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই আলোচনা করা হবে।
এদিকে গত প্রায় দুই বছর ধরে নানা কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক চাপে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা গেলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো অগ্রগতি হয়নি।
মে মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন। তবে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, কনস্যুলার সংলাপ পুনরায় শুরু এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
এর মধ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে তার সফর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, সফরটি হলে গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।






