নোবেল শুধু পুরস্কার নয়, স্টকহোমজুড়ে জ্ঞানের মহোৎসব

সংগৃহীত ছবি
নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্টকহোমে শুরু হয়েছে জ্ঞান, গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চার এক অনন্য আয়োজন। নোবেল প্রাইজ মিউজিয়ামের উদ্যোগে এবং শহরের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতায় আয়োজিত ‘নোবেল কলিং স্টকহোম’ কর্মসূচি নোবেল সপ্তাহকে পরিণত করেছে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বিজ্ঞান উৎসবে। ৫ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞানভিত্তিক নানা প্রদর্শনী-আলোচনার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
এবারের আয়োজনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা। ‘এআই কি আমাদের কম বুদ্ধিমান করে দিচ্ছে?’ শীর্ষক আলোচনায় কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়, কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও স্টকহোম স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষকেরা অংশ নিয়েছেন। মানুষের শেখার প্রক্রিয়া, সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে সেখানে।
শুধু আলোচনা নয়, গবেষণার জগতকে সরাসরি দেখার সুযোগও রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখতে পারছেন উত্তর ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ জেব্রাফিশ গবেষণাকেন্দ্র। হৃদরোগ ও জিনগত রোগ নিয়ে কীভাবে গবেষণা হয়, বিজ্ঞানীরা কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেন এবং একটি গবেষণাগারে প্রতিদিনের কাজ কেমন, সে সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন তারা।
একই প্রতিষ্ঠানে শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নোবেলজয়ী আবিষ্কার নিয়েও বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা কীভাবে শিশুস্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণে অবদান রেখেছে, তা তুলে ধরা হচ্ছে দর্শনার্থীদের সামনে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে ‘কোষ, স্নায়ু ও জিন’ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ-নির্দেশিত প্রদর্শনী। সেখানে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে দেওয়া বিজ্ঞানীদের কাজ সহজ ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।
স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের কয়েকটি বিশেষায়িত গবেষণাকেন্দ্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। দর্শনার্থীরা শব্দ ও মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার ‘গ্যোস্তা একমান ল্যাবরেটরি’, প্রাচীন ডিএনএ ও ম্যামথ গবেষণার ‘সেন্টার ফর প্যালিওজেনেটিকস’ এবং মস্তিষ্কের গঠন পর্যবেক্ষণের ‘ব্রেইন ইমেজিং সেন্টার’ পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। সাধারণত গবেষকদের কাজের জন্য সংরক্ষিত এসব স্থানে প্রবেশের সুযোগ অনেকের কাছেই বিরল অভিজ্ঞতা।
নোবেল পুরস্কারের খবর প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। তবে স্টকহোমে নোবেল সপ্তাহ শুধু বিজয়ীদের উদযাপনে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় ও জাদুঘরের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দিয়ে জ্ঞান, গবেষণা ও কৌতূহলকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ারও আয়োজন এটি। নোবেলের শহরে অক্টোবরের এই দিনগুলো তাই পুরস্কারের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চারও এক প্রাণবন্ত উৎসব হয়ে ওঠে।
তথ্যসূত্র: নোবেল প্রাইজ মিউজিয়াম, কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়




