বিমানে আসছে দুই স্তরের সিট?

সংগৃহীত ছবি
যাত্রীদের আরাম-আয়েশের চিন্তায় ঘুম নেই বিমানের। দূরযাত্রা আরও বিলাসী করে তুলতে নিত্যনতুন পথ খুঁজছে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনই এক আনন্দযাত্রার হাতছানি দিচ্ছে ‘এয়ারবাস’। বিমান বাজারে ইউরোপের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানে ‘ডাবল লেভেল সিট’ আসনের কথা ভাবছে কোম্পানিটি। দুই স্তরবিশিষ্ট আসনের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘চেজ লং সিট’। সম্পূর্ণ নতুন এ ধারণাটি এরই মধ্যে ঝড় তুলেছে সামাজিক মাধ্যমে। বাজারে আসার আগেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে।
উড়ন্ত বিমানের পেটে ‘গা ছেড়ে’ বসার নতুন এ আসনটি সত্যিই অন্যরকম! আরও আধুনিক। ব্যতিক্রমী নকশা। যাত্রীদের মাথার ওপরে থাকা লম্বা ‘লাগেজ ছাদ’ সরিয়ে বড় জায়গা বের করে নিয়েছেন দক্ষ ডিজাইনার। সেখানেই বসিয়েছে এই দুই স্তরের সিট। প্রথম আসন উঁচুতে। খানিকটা একতলার মতো। সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হবে দুই ধাপ। পরেরটা একেবারে মেঝে থেকে।
দুই স্তরবিশিষ্ট আসনের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘চেজ লং সিট’। সম্পূর্ণ নতুন এ ধারণাটি এরই মধ্যে ঝড় তুলেছে সামাজিক মাধ্যমে
সুবিধাটা হলো— এতে হেলান দিয়ে কিংবা পা ছড়িয়ে; সব ভাবেই বসতে পারবেন যাত্রীরা। চাইলে পা সটান করে সামনে ঠেলে দিতে পারবেন নিচের যাত্রী। সেই চিন্তা থেকেই একটি ফাঁকা চেম্বার রাখা হয়েছে সামনের সিটের নিচে। দূরপাল্লার স্লিপিং কোচগুলোর মতো অনেকটা, যাদের চলাফেরায় সমস্যা আছে বা যারা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন, তাদের জন্যও থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।
টানা পাঁচ বছর ধরে চলছে এই গবেষণা। শুরু হয় ২০২০ সালে। একটি কলেজ প্রজেক্টে তখন প্রথম প্রদর্শন হয় নকশাটির। পরে ২০২২ সালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় নমুনা। আগের তুলনায় একটু ছোট আকারের। তবে এবারের নকশাটিকে ‘চূড়ান্ত ও শেষ সংস্করণ’ বলছেন নকশাকার আলেজান্দ্রো নুনিয়েজ ভিসেন্তে।
বিপরীত মন্তব্যও রয়েছে নকশাটির। নিচের স্তরে যারা বসবে তাদের মধ্যে দমবন্ধ পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এয়ারলাইনসগুলোর বেশি যাত্রী ঠাসার একটি ফন্দি হিসেবে দেখছেন অনেকে।
নুনিয়েজ ভিসেন্তের দাবি, নতুন নকশায় আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রশস্ত করা হয়েছে নিচের অংশটি, যাতে যাত্রীরা ভ্রমণ করতে পারে আরামে। ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীদের ব্যয় ক্ষমতার কথা চিন্তা করে নকশাটি করেছেন নুনিয়েজ। নাম দিয়েছেন ‘প্রিমিয়াম ইকোনমি’।
এ সম্পর্কে তার বক্তব্য, ‘ইকোনমি ক্লাসে যাত্রীদের বেশি জায়গা দিতে চায় না বর্তমানে এয়ারলাইনসগুলো। তাই আমাদের নকশাটি করেছি প্রিমিয়াম ইকোনমির মতো।’ একমাত্র এয়ারবাস ছাড়া এখনো নকশাটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি কোনো এয়ারলাইনসই।


