ফিলিস্তিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস ঘোষণা করল চিলি

সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ১৬ বছর পর দেশটির সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস পালন করতে যাচ্ছে চিলি। দুই জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদ্যাপনে নতুন আইন পাসের পর ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হবে।
চিলির সরকারি গেজেটে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আইন নম্বর ২১৮৪৩-এ প্রতিবছর ৭ জানুয়ারিকে ফিলিস্তিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উদ্যাপনের পাশাপাশি এ উদ্যোগ ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় চিলির অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করছে। জাতিসংঘের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানবাধিকার রক্ষায় দেশটির প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
আইনটিতে দুটি ধারা রয়েছে। প্রথম ধারায় প্রতিবছর ৭ জানুয়ারিকে চিলি ও ফিলিস্তিনের বন্ধুত্ব ও সংহতি দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধারায় দুই জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক উদ্যাপনে স্মারক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি চিলির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আইনে বলা হয়েছে, ‘চিলি ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতি উদ্যাপনে স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নীতি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি চিলির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।’
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম উত্থাপিত হয় এ প্রস্তাব। পরে এটি সিনেটে যায়। সেখানে কয়েকটি সংশোধনী আনার পর প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। এরপর চূড়ান্ত ভোটাভুটির জন্য এটি আবার প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাওয়ার পর আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হয়।
সংসদীয় আলোচনায় প্রস্তাবটির পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সিনেটর ভ্লাদো মিরোসেভিচ। তিনি বললেন, ‘আমি এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছি, কারণ এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলে, যা চিলির কাছে বিদেশি নয়; বরং এটি আমাদের নিজেদের ও আমাদের ইতিহাসের কথা বলে।’
কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে বিলটি। প্রতিনিধি পরিষদে ১০০টি এবং সিনেটে ৩০টি ভোট পেয়ে এটি অনুমোদিত হয়।
নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিনা তেল্লো। তিনি বললেন, ‘আমরা আনন্দিত। আশা করি, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনে আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি, তা বিশ্বের অন্য কোথাও ঘটতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলতে পারে না।’
চিলিতে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি দূতাবাসও নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা।
চিলি ও ফিলিস্তিন—উভয় দেশের কাছেই ৭ জানুয়ারির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি চিলির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরার শাসনামলে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় দেশটি।
সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর



