রাষ্ট্রদূত নিয়োগে বিতর্ক
মন্ত্রিসভার সমর্থন টিকিয়ে রাখবে স্টারমারকে?

কিয়ার স্টারমার
পিটার ম্যান্ডেলসন ঘিরে বিতর্কের জেরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হলেও তার পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া হয় নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও— এ তথ্য সামনে আসার পরই তীব্র হয় এই বিতর্ক।
রবিবার সরকারের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলছিলেন, তিনি স্টারমারকে সমর্থন করেন শতভাগ। তার ভাষায়, নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থতার বিষয়টি জানা থাকলে প্রধানমন্ত্রী কখনোই অনুমোদন দিতেন না এই নিয়োগ। উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও একই বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, স্টারমার জানলে কখনোই রাষ্ট্রদূত করতেন না তাকে।
স্টারমার বলছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ে ম্যান্ডেলসনকে ছাড়পত্র না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল— এ তথ্য তাকে জানানো হয়নি, এতে তিনি ক্ষুব্ধ। তবুও পররাষ্ট্র দপ্তর এগিয়ে নেয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে স্টারমারের ওপর। তিনি পার্লামেন্টে এমপিদের মুখোমুখি হবেন সোমবার।
পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা অলি রবিন্স পদত্যাগ করেন বৃহস্পতিবার। তিনি মঙ্গলবার বক্তব্য দেবেন পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সামনে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা সাইমন ম্যাকডোনাল্ড মন্তব্য করেন, বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে রবিন্সকে। নিরাপত্তা যাচাইসংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রধানমন্ত্রী বা তার দপ্তরের সঙ্গে তা কখনোই ভাগ করা হতো না।
স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দলগুলো। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভির ভাষ্য, সরকার স্থায়ী সংকটে এবং স্টারমার সরে না দাঁড়ালে পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। লেবার পার্টির পার্লামেন্টে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় স্টারমারকে সরানোর ক্ষমতা মূলত তার নিজের দলের এমপিদের হাতেই। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন ক্ষতিকর হতে পারে নেতৃত্ব পরিবর্তন।
অন্যদিকে, অনেকেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয়ের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তে হতাশ। সমালোচকদের মতে, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাটি প্রশ্ন তুলেছে স্টারমারের বিচারবোধ নিয়ে।
মার্চে প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক সরকারকে ‘সুনামের ঝুঁকিতে’ ফেলতে পারে— এ মর্মে স্টারমারকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সাবেক ইইউ বাণিজ্য প্রধান হিসেবে তার অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে দেখা হয়েছিল ইতিবাচক হিসেবে।
ম্যান্ডেলসন ৯ মাসেরও দায়িত্বে ছিলেন কম সময়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্টারমার তাকে সরিয়ে দেন, যখন জানা যায় তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০০৮ সালে দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টেইনের সঙ্গে বজায় ছিল তার সম্পর্ক। ২০০৯ সালে তিনি সংবেদনশীল সরকারি তথ্যও এপস্টেইনের কাছে দিয়েছেন— এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় ইমেইলে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ পুলিশ তাকে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে জামিন ছাড়াই তিনি মুক্ত এবং তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগ গঠন হয়নি এবং তিনি আগেই অস্বীকার করেছেন সব অভিযোগ।

