পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণেই বিস্ফোরিত ব্লু অরিজিনের রকেট

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলক স্থির ইঞ্জিন পরীক্ষা চলাকালে বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে জেফ বেজোসের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেট। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও নাসার চাঁদে ঘাঁটি নির্মাণ ও মানববাহী চন্দ্র মিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে রকেটটির নির্ধারিত ‘হটফায়ার’ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে এ বিস্ফোরণ। লঞ্চিং প্যাড গ্রাস করে নেয় বিশাল আগুনের গোলা। বিস্ফোরণের ধাক্কা লাগে কয়েক কিলোমিটার দূরের স্থাপনার গায়েও। আকাশের কমলা আভা নজরে পড়ে দূরবর্তী এলাকা থেকেও। তবে জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি হয়নি।
নিউ গ্লেন রকেট ব্যবহার করে নাসার চন্দ্র অভিযানের জন্য ল্যান্ডার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ছিল ব্লু অরিজিনের। ভবিষ্যতে মহাকাশচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছে দেওয়ার মিশনেও এ রকেট ব্যবহারের কথা ছিল।
ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের সব কর্মী নিরাপদ আছেন এবং কেউ আহত হননি। ‘ঘটনাটির মূল কারণ জানতে এখনো সময় লাগবে। আমরা কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছি। শিগগিরই আবার ফিরে আসব আমরা।’
ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে নাসা ঘোষণা দিয়েছিল, তাদের ২০ বিলিয়ন ডলারের চন্দ্র ঘাঁটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম মিশন উৎক্ষেপণের দায়িত্ব পেয়েছে ব্লু অরিজিন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালে নির্ধারিত আর্টেমিস-৪ মিশনের জন্য চন্দ্র ল্যান্ডার সরবরাহে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক্সে দেওয়া সেই প্রতিক্রিয়ায় মন্তব্য করেছেন, ‘মহাকাশযাত্রা অত্যন্ত কঠিন, নতুন ভারী রকেট প্রযুক্তি তৈরি করা আরও কঠিন।’ তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং এর ফলে আর্টেমিস কর্মসূচি ও চন্দ্র ঘাঁটি প্রকল্পে কী প্রভাব পড়তে পারে তা মূল্যায়ন করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্লু অরিজিন একাধিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। গত মাসে নিউ গ্লেনের তৃতীয় ফ্লাইটে বহন করা পেলোড পৌঁছে যায় ভুল কক্ষপথে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সাময়িকভাবে রকেটটির উড্ডয়ন স্থগিত করেছিল। গত সপ্তাহেই সংস্থাটি আবার পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের অনুমতি দেয়।
ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্স উভয়ই নাসার সহযোগিতায় ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল অঞ্চলে গড়ে তুলেছে নতুন অবকাঠামো। ব্লু অরিজিনের ব্লু মুন ল্যান্ডার এবং স্পেসএক্সের স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম পরীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৭ সালের আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য। এর ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানে কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ব্লু অরিজিনের এই দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইলন মাস্কও। এক্সে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রকেট তৈরি করা কঠিন কাজ।’






