পেন্টাগনের সঙ্গে গুগলের এআই চুক্তি, প্রতিবাদে পদত্যাগ কর্মীদের

সামরিক অভিযানে এআই ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে গুগলের উদ্যোগ কর্মীদের প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করতে ‘লজ্জিত’ বোধ করাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
সামরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন গুগল ডিপমাইন্ডের কয়েকজন কর্মী। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তির ফলে সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের পরিধি আরও বাড়বে। যুদ্ধক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও মানুষের তদারকি ছাড়াই এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।
গুগলের এআই প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পদত্যাগ করা কর্মীদের একজন লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রকৌশলী সোফিয়া লিগুওরি।
চলতি সপ্তাহে পদত্যাগের পর তিনি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানে এআই ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে গুগলের উদ্যোগ তাকে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করতে ‘লজ্জিত’ বোধ করাচ্ছে।
এ মাসের শুরুতে পদত্যাগ করেছেন এআই গবেষক আন্দ্রেয়াস কির্শও। তার মতে, পেন্টাগনের এআই ব্যবহারের ওপর গুগলের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির সুযোগ সীমিত। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও তদারকিও যথেষ্ট নয়।
গুগল ডিপমাইন্ড হলো গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এটি উন্নত এআই মডেল ও প্রযুক্তি তৈরি এবং সেগুলো নিয়ে গবেষণা করে।
কর্মীদের পদত্যাগের বিষয়ে গুগলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। এসব চুক্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।
মুখপাত্রের ভাষ্য, ‘আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করি। এসব চুক্তি পর্যালোচনা ও সম্পাদনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এর মধ্যে আমাদের গ্রহণযোগ্য ব্যবহারের নীতিমালা এবং এআই-সংক্রান্ত মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাইও রয়েছে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক নৈতিকতা থেকে শুরু করে অসদাচরণ, বিভিন্ন বিষয়ে কর্মীরা যাতে নিরাপদে উদ্বেগ জানাতে পারেন, সে জন্য গুগলের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি, উদ্বেগ জানানোর কারণে কোনো কর্মী যাতে প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কঠোর কর্মক্ষেত্রের নীতিমালাও রয়েছে।
সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের চুক্তি নিয়ে এবারই প্রথম সমালোচনার মুখে পড়েনি গুগল। এর আগে গত জুনে গুগল ডিপমাইন্ড ছাড়েন গবেষণা বিজ্ঞানী অ্যালেক্স টার্নার। তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেছেন।
টার্নার জানিয়েছেন, পেন্টাগন গুগলের এআই প্রযুক্তি গোপন সামরিক কাজে ব্যবহার করতে যাচ্ছে, এমন তথ্য স্পষ্ট হওয়ার পরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
জুলাইয়ে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, গুগল এ চুক্তি করবে না। আমি তাদের সঙ্গে একমত ছিলাম না। তবে আমার সতর্কবার্তাগুলো তারা অনেকটাই উপেক্ষা করেছিলেন।’
টার্নার আরও লিখেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত গুগল এমন একটি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে হত্যাকারী রোবট বা ব্যাপক নজরদারির বিরুদ্ধে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই তাদের এআই ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গুগলের চুক্তিতে থাকা বিধিনিষেধ ওপেনএআইয়ের চেয়েও দুর্বল ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিবেকের তাড়নায় গুগলে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই আমি চলে এসেছি।’
এর আগে গুগলের প্রায় ৬০০ কর্মী একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এতে গোপনীয় সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য এআই প্রযুক্তি সরবরাহসংক্রান্ত কোনো চুক্তিতে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তবুও গুগল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মধ্যে গোপন সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
সূত্র : এনডিটিভি





