এফবিজেএ
বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ 'উদ্বেগজনক'

ফ্রান্সে নিবন্ধিত ফ্রান্স বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি এফবিজেএ
বাংলাদেশের নতুন ভিসা নীতিতে বিদেশি সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের জন্য আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে ফ্রান্সে নিবন্ধিত ফ্রান্স বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি (এফবিজেএ)। সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ সীমিত করে এমন কোনো বিধান স্বাধীন গণমাধ্যমের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
২৬ আগস্ট প্যারিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এফবিজেএ নতুন ভিসা নীতির আওতায় বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আরোপিত বিভিন্ন শর্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এফবিজেএর বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন ভিসা নীতির আওতায় বিদেশি সাংবাদিকদের পুরো প্রযোজনাকালীন সরকার মনোনীত একজন প্রতিনিধির উপস্থিতি মেনে নেওয়া এবং বাংলাদেশ ছাড়ার আগে অনাপত্তি সনদ নেওয়ার মতো শর্তের কথা জানা গেছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের শর্ত সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে অযাচিত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে তথ্য সংগ্রহ, উৎস যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে পেশাগত স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিনিধি বা প্রশাসনিক অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলে সংবাদ সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ সাংবাদিকদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এফবিজেএ বলেছে, কোনো সাংবাদিককে এমন কোনো নথিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা উচিত নয়, যা তার পেশাগত নৈতিকতা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা কিংবা সংবাদসূত্রের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তথ্যের স্বাধীন প্রবাহ ও সংবাদসূত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এফবিজেএর ভাষ্য, ওই সময়ের গণআন্দোলন ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের ওপর থাকা বিধিনিষেধ, সেন্সরশিপ ও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মানুষের প্রত্যাখ্যানের বহিঃপ্রকাশ। সেই অভিজ্ঞতার পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নতুন কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সংগঠনটি মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন সাংবাদিকতা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেশি কিংবা বিদেশি কোনো সাংবাদিকের ক্ষেত্রেই পেশাগত দায়িত্ব পালনে অযাচিত চাপ, নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং সাংবাদিকতার পেশাগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
নতুন ভিসা নীতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিন দফা আহ্বান জানিয়েছে এফবিজেএ। প্রথমত, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন বিধিনিষেধ প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, দেশি ও বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নির্বিঘ্নে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সমুন্নত রাখা।
ফ্রান্সে নিবন্ধিত ফ্রান্স বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির যোগাযোগ ও জনসংযোগ বিভাগের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন নিয়াজ মাহমুদ ও মোমিন আনসারি।
এফবিজেএর বিবৃতিতে বলা হয়, ভয়, চাপ কিংবা কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়াই সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত। সংগঠনটি এ বিষয়ে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকার নতুন ভিসা নীতির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেবে এবং এমন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর করবে না, যা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এফবিজেএ মনে করে, অবাধ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য বাংলাদেশে কাজের ক্ষেত্র আরও স্বচ্ছ ও আস্থাপূর্ণ হবে।







