ডেনমার্ক
নারীনেতৃত্বাধীন জোট সরকারের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি

সংগৃহীত ছবি
তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। দেশের নাগরিকদের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিনামূল্যে দাঁতের চিকিৎসা, ফল ও সবজির ওপর বিক্রয়কর প্রত্যাহার, অন্যান্য খাদ্যপণ্যে কর কমানো এবং ২২ বছরের কম বয়সিদের জন্য বিনামূল্যে গণপরিবহন সুবিধা চালুর মতো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নতুন কেন্দ্র-বামপন্থী জোট সরকার।
বুধবার রাজধানী কোপেনহেগেনে রাজা ষষ্ঠ ফ্রেডেরিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পর তার নতুন মন্ত্রিসভা উপস্থাপন করেন ফ্রেডেরিকসেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ নারী সদস্য নিয়ে গঠিত এ জোটে রয়েছে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, গ্রিন লেফট পার্টি, মডারেটস এবং সোশ্যাল লিবারেল পার্টি।
রাজপ্রাসাদের সামনে সমবেত জনতার উদ্দেশে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমি আমাদের যৌথভাবে তৈরি করা সরকার পরিচালনার ভিত্তি নিয়ে গর্বিত। অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার এই সময়ে আমরা ডেনিশ জনগণের জন্য একটি আশাবাদী ভিত গড়ে তুলতে পেরেছি, সেটিও গর্বের বিষয়।’
তবে বিরোধীরা সরকারের ঘোষিত কর্মসূচির অর্থায়ন নিয়ে তুলেছে প্রশ্ন। তাদের মতে, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
কোপেনহেগেনের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী জ্যাকব চ্যাং বলেন, ‘বিনামূল্যে দাঁতের চিকিৎসা দারুণ একটি উদ্যোগ। অন্য স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে হলেও দাঁতের চিকিৎসা কেন ছিল না, তা দীর্ঘদিনের প্রশ্ন। এটি ভালো প্রতিশ্রুতি, কিন্তু অর্থ আসবে কোথা থেকে?’
তার ভাষ্য, সরকারের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করেন না তিনি। তবে বিনামূল্যে দন্তচিকিৎসার পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ পেতে পারে। তিনি বলেন, ‘সব প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় না। তবে বিনামূল্যে দন্তচিকিৎসা চালু হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষদের আগে এ সুবিধা দেওয়া হবে, সেটিও ইতিবাচক।’
কল্যাণমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন সরকার করপোরেট কর কমানো এবং সর্বোচ্চ আয়ের কর-স্তর বাতিলের পরিকল্পনাও করেছে। তবে সরকারকে সমর্থন দেওয়া বামপন্থী রেড-গ্রিন অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ বৈষম্য বাড়ালে এর বিরোধিতা করবে তারা।
দলটির চেয়ারম্যান পেলে ড্রাগস্টেড বলেন, ‘আমরা বহিষ্কারসংক্রান্ত সংস্কারের দৃঢ় বিরোধী। সামগ্রিকভাবে সরকারের অভিবাসন নীতির বড় একটি অংশ নিয়েও রয়েছে আমাদের আপত্তি। আমরা শক্তিশালী বিরোধী ভূমিকা পালন করব এবং সম্ভবত সেটির প্রয়োজনও আছে।’
অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে ফ্রেডেরিকসেন ইউরোপে কঠোর অবস্থানের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের কিছু ব্যাখ্যা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি, যাতে অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কারে সদস্য রাষ্ট্রগুলো আরও বেশি ক্ষমতা পায়।
নতুন জোট গঠনের মাধ্যমে ফ্রেডেরিকসেন ডেনমার্কের ইতিহাসে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। যদিও সর্বশেষ নির্বাচনে তার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ফল আগের তুলনায় দুর্বল ছিল এবং ব্যক্তিগতভাবেও ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম ভোট পেয়েছেন তিনি।
নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকছেন মডারেটস নেতা লার্স লোকে রাসমুসেন। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন তিনি।
সরকারের নতুন নীতিপত্রে আবারও বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। তবে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেই এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছে কোপেনহেগেন।
নতুন জোট সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি জায়ান্টদের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নাগরিকদের প্রভাবিত করার ঝুঁকি গণতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে ‘কৌশলগত ও ভারসাম্যপূর্ণ’ নীতি অনুসরণ করবে সরকার।




