লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা

অভিযুক্ত শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে পার্কে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে পুলিশ। তাদের অবস্থানের তথ্য দিয়ে ধরিয়ে দিতে মোট ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশের খোঁজে থাকা দুজন হলেন ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ ও ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। তাদের ছবি প্রকাশ করে অবস্থান শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, ওই রাতে হোয়াইটচ্যাপেল রোড এলাকায় দুই ব্যক্তি তাকে প্রলোভন দেখিয়ে উইভার্স ফিল্ডস পার্কে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এক পথচারী কিশোরীটিকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং ফরেনসিক পরীক্ষাসহ বিভিন্নভাবে তদন্ত চালায় পুলিশ। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে প্রকাশ্যে আবেদন জানানোর পর তদন্তকারীরা নতুন কিছু তথ্য পান।
মেট পুলিশ জানিয়েছে, শওকত আহমেদ যুক্তরাজ্যে থাকতে পারেন এবং টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। জাহিদুল হাসান জায়গীরদারেরও ওই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তবে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা।
অন্যদিকে, আগামীর সময়ের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের এক থেকে দুই দিনের মধ্যে দুজন আলাদাভাবে ফ্রান্স হয়ে ইউরোপে চলে যান। জাহিদুল ইউরোপের কোনো দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ওই তথ্যে দাবি করা হয়েছে। আর শওকত ইতালি হয়ে বাংলাদেশে চলে গেছেন। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা।
তবে এসব তথ্যের বিষয়ে পুলিশের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্রাইমস্টপার্সের লন্ডন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা লুকাস বলেছেন, কিশোরীটি ‘ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক’ হামলার শিকার হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকে শনাক্ত করা ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও তাদের অবস্থান খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানিয়েছেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে সামান্য তথ্য থাকলেও ক্রাইমস্টপার্সকে জানানো যেতে পারে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।




