ব্রিটেনের হবু প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চ্যালেঞ্জ লেবারের ‘বয়েজ ক্লাব’ ভাঙার দাবি

অ্যান্ডি বার্নহাম- রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তাঁর সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে লেবার পার্টির কথিত ‘বয়েজ ক্লাব’ সংস্কৃতি ভাঙার দাবি। দলের নারী নেত্রীরা চাইছেন, প্রথম দিন থেকেই যেন সরকার ও দলীয় নেতৃত্বে নারী-পুরুষের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন তিনি।
লেবার পার্টির নারী সংসদ সদস্যদের সংগঠন উইমেনস পার্লামেন্টারি লেবার পার্টি (ডব্লিউপিএলপি) বার্নহামের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মন্ত্রিসভা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে নারী-পুরুষের ৫০:৫০ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। বিবিসির হাতে আসা ওই চিঠির খসড়ায় বলা হয়েছে, “আমরা চাই, আপনি প্রথম দিন থেকেই এই পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন এবং আমাদের দল ও সরকারের ভেতরের বিষাক্ত পরিবেশ ও নারীবিদ্বেষের মোকাবিলা করুন।”
দলের নারী নেত্রীদের অভিযোগ, লেবার পার্টিতে নারীদের উপস্থিতি বাড়লেও ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এখনও পুরুষদের প্রভাবই বেশি। লেবারের সংসদ সদস্য পলি বিলিংটন সম্প্রতি এলবিসি রেডিওকে বলেন, “আমাদের এই সংস্কৃতি কমিয়ে আরও বৈচিত্র্য দরকার।” সাবেক মন্ত্রী জেস ফিলিপসও একই সুরে বলেন, “শুধু নারীদের কক্ষে উপস্থিত রাখলেই হবে না। তাঁদের প্রকৃত ক্ষমতা দিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাঁদের মতামতও গুরুত্ব পেতে হবে।”
লেবারের উপনেতা লুসি পাওয়েলও সম্প্রতি অভিযোগ করেন, ডাউনিং স্ট্রিটে জ্যেষ্ঠ নারী মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ‘অস্বস্তিকর’ ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি ‘বয়েজ ক্লাব’ সংস্কৃতিরই প্রতিফলন।
বর্তমানে ৬৫০ সদস্যের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নারী এমপি রয়েছেন ২৬৬ জন। এর মধ্যে লেবার পার্টির নারী এমপি ১৮৬ জন, যা দলটির মোট সংসদ সদস্যের ৪৬ শতাংশ। বর্তমান মন্ত্রিসভাতেও প্রায় একই অনুপাতে নারী সদস্য রয়েছেন। তবে সমালোচকদের মতে, সংখ্যায় অগ্রগতি হলেও প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে নারীদের প্রভাব এখনও সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৩ সাল থেকে প্রার্থী মনোনয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও লেবার পার্টি এখনও কোনো নারী নেতাকে নির্বাচিত করতে পারেনি। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কবেক কলেজের অধ্যাপক জোনি লাভেনডুস্কির মতে, দলটি ঐতিহাসিকভাবে লিঙ্গের চেয়ে শ্রেণির প্রশ্নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
অন্যদিকে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারাহ চাইল্ডস মনে করেন, বার্নহামের নেতৃত্বে লেবার পার্টির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি হতে পারে “পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনাময় মুহূর্ত।”
তবে নারী নেত্রীদের এসব দাবি নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি অ্যান্ডি বার্নহাম।




