মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, যুক্তরাজ্যে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও যাত্রীসংখ্যা কমায় যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট বাতিল শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এয়ারলাইন্স তাদের সেবায় কাটছাঁট করেছে, কোথাও কোথাও আরোপ করা হয়েছে নতুন ভাড়া।
গার্নসিভিত্তিক এয়ারলাইন্স অরিগনি এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। কোম্পানিটি বলছে, ‘বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায়’ এটি তাদের আগাম ব্যবস্থা।
এয়ারলাইন্সটি নতুন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি সেক্টরে ২ পাউন্ড করে ‘অস্থায়ী জ্বালানি সমন্বয় চার্জ’ চালু করেছে। তবে আগে বুকিং দেওয়া যাত্রীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে তাদের ফ্লাইটের চাহিদা ১৩ শতাংশ কমেছে।
অরিগনি গার্নসি থেকে গার্নসিগামী কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে, আবার কিছু ফ্লাইট এক সঙ্গে করেছে। লন্ডন সিটি বিমানবন্দরগামী ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের লন্ডন গ্যাটউইকগামী ফ্লাইটে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
এক্সেটার ও ব্রিস্টল রুটের কিছু ফ্লাইটও এক করা হয়েছে। ফলে ব্রিস্টল থেকে গার্নসির কিছু যাত্রায় আগের ৫৫ মিনিটের বদলে প্রায় এক ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে।
প্যারিস ও গার্নসির মধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইট বাড়ানোর যে পরিকল্পনা ছিল, সেটিও জুন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অরিগনির প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফিলিপ সন্ডার্স বলেছেন, ‘আমরা ছোট একটি দ্বীপে বসবাস করলেও বৈশ্বিক ভ্রমণব্যবস্থার বাস্তবতা থেকে আলাদা নই। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ভোক্তাদের আস্থায় প্রভাব ফেলছে, বদলে দিচ্ছে ভ্রমণের ধরণ। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন বিমান খাতেও পড়ছে। গার্নসিতে বিমানসেবা চালু রাখতে আমাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে যাত্রীদের।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘স্বল্পমেয়াদে চাহিদা কিছুটা কম হলেও জুলাই থেকে পরিস্থিতি ভালো হবে বলে আমরা দেখছি। যুক্তরাজ্য থেকে আরও বেশি পর্যটক আমাদের নিরাপদ ও সুন্দর দ্বীপে ফিরবেন বলে আশা করছি। সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও গার্নসির ভ্রমণবাজারের জন্য আমরা ইতিবাচক একটি বছর প্রত্যাশা করছি।’
‘যেসব যাত্রীর ভ্রমণসূচি বদলে গেছে, তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিকল্প ফ্লাইটে অস্থায়ী বুকিং দেওয়া হচ্ছে। চাইলে তারা নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগে বা পরে অন্য ফ্লাইটে যেতে পারবেন, অথবা পুরো অর্থ ফেরত নিতে পারবেন।’
এদিকে ১৯ এপ্রিল থেকে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর হতে নতুন গ্রীষ্মকালীন সেবা নিয়ে গার্নসিতে ফিরছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ।
স্কাইবাসও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে কর্নওয়ালের নিউকোয়ি ও লন্ডন গ্যাটউইকের মধ্যে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। কর্নওয়াল কাউন্সিলের আর্থিক সহায়তায় ‘পাবলিক সার্ভিস অবলিগেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চলছিল। বর্তমান সূচি ৩১ মে পর্যন্ত চালু থাকার কথা ছিল।
স্কাইবাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাথন হিংকলস বলেছেন, ‘উপসাগরীয় যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম অনেক বেড়েছে। এতে কমে গেছে যাত্রী সংখ্যা।’
বর্তমানে লন্ডন স্ট্যানস্টেড থেকে নিউকোয়ি রুটে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে রায়ানএয়ার। অন্যদিকে ২৩ জুন থেকে গ্যাটউইক– নিউকোয়ি রুটে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চালু করার কথা রয়েছে ইজিজেটের।
গত বুধবার রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও লিয়ারি সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির ঘাটতির কারণে কিছু ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
মার্চ মাসের সর্বশেষ যাত্রীপরিসংখ্যানে রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ‘লোড ফ্যাক্টর’ বা আসন পূরণের হার ৯৩ শতাংশেই থেমে আছে।

