গ্রিসে ১৫ বছর না হলে যোগাযোগমাধ্যমে না

সংগৃহীত ছবি
অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ডেনমার্কসহ আরও অনেক দেশের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো গ্রিস। শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সুরক্ষায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিল পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্তির আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে শিশুদের অনলাইন কার্যক্রম-সংক্রান্ত নিয়মকানুন কঠোর করছে অনেক দেশ। আলজাজিরার গতকাল শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের দল নিউ ডেমোক্রেসি, শুক্রবার তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে পাস করেছে বিলটি।
গ্রিসের নতুন এ আইন কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এ আইন অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বয়স যাচাই করা বাধ্যতামূলক হবে। একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি তা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর আরোপ করা হবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। মিতসতাকিস এর আগে এপ্রিল মাসে ঘোষণা করেছিলেন এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার কথা। এই পদক্ষেপটির ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, এটি তার সরকারের নেওয়া একটি ‘কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয়’ সিদ্ধান্ত। গ্রিসের তরুণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে তিনি এই পদক্ষেপটির ব্যাখ্যা দেন। নতুন এই আইন নিয়ে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করার উপায় বের করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আড়াই মাস সময়। রয়টার্সের গতকাল শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সাতটি দেশ ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে মিলে বয়স যাচাইয়ের একটি সমাধান খুঁজছে, গ্রিস তাদের মধ্যে অন্যতম। দেশটি জানিয়েছে, তারা অভিভাবকদের পাশে আছে, যাতে শিশুদের ‘অবিরাম স্ক্রল’ করার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা যায়। এই অভ্যাসের কারণে কমে গেছে শিশুদের ঘুম, মনোযোগ এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ।
গত বছর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে লাগাম টানতে আইন পাস করে অস্ট্রেলিয়া। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে গ্রিস এমন প্রায় ২০টি দেশের তালিকায় শামিল হলো, যারা বর্তমানে তরুণদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করেছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চালু অথবা তা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক এবং যুক্তরাজ্য।



