ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ
বহু ইউক্রেনিয়র মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ট্রাম্প
- ‘ঘৃণ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লজ্জা’, ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ স্যার ম্যালকম রিফকিন্ডের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার ম্যালকম রিফকিন্ড
যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। আর ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে বিপন্ন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার ম্যালকম রিফকিন্ড। তার বক্তব্য, ইউক্রেনের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, বহু ইউক্রেনীয়র মৃত্যুর জন্যও তাকে সরাসরি দায়ী করেছেন প্রবীণ এই কনজারভেটিভ নেতা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) স্কাই নিউজের সকালের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিফকিন্ড এসব মন্তব্য করেছেন। একই বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হাফপোস্ট ইউকে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিফকিন্ড বলেছেন, ‘খুব ভেবেচিন্তেই শব্দ বেছে নিচ্ছি। এই সপ্তাহে ট্রাম্প নিজেকে ঘৃণ্য ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ‘নিজের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্বের জন্য লজ্জা’ হয়ে উঠেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন রিফকিন্ড।
রিফকিন্ডের অভিযোগ, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম কমিয়ে কয়েকটি বাড়তি ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, এটি ‘নোংরা রাজনৈতিক হিসাব’। ইউক্রেন যখন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লড়ছে, তখন মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি সমঝোতা এবং কিয়েভের ওপর চাপকে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন।
সবচেয়ে কঠোর অভিযোগটি আসে গোয়েন্দা তথ্যের প্রসঙ্গে। রিফকিন্ড বলেছেন, ‘পরোক্ষভাবে নয়, সরাসরি’ বহু ইউক্রেনীয়র মৃত্যুর জন্য দায়ী ট্রাম্প। তার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় আগে রাশিয়ার হামলা সম্পর্কে সতর্ক হওয়া যেত। সেই সুরক্ষা ব্যাহত হওয়ায় মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। তবে তার অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এরই মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সাময়িক স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতাও হয়েছে। ওয়াশিংটনের যুক্তি, ইরান যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম সামাল দেওয়া জরুরি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পর্যালোচনায় সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় নেওয়া হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রয়টার্স জানিয়েছে, সদ্য অনুমোদিত রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞা আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও আপত্তি উঠেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ কমলে মস্কো যুদ্ধ চালানোর অর্থ পেতে পারে। তবে কতটা অর্থ মিলবে এবং তাতে যুদ্ধক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসবে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব এখনও নেই। ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে মতবিরোধও এখন আরও স্পষ্ট।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, এই ছাড় রাশিয়াকে উৎসাহিত করবে। রুশ হামলা অব্যাহত থাকায় কিয়েভ আবারও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আঘাত শুরু করেছে। ট্রাম্প সেই হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার অভিযোগ অবশ্য ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তথ্য বিনিময় চলছে।
ব্রিটেনের বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনকও রুশ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সমালোচনা করেছেন। তবে ব্রিটিশ মন্ত্রী ইভেট কুপার সরাসরি ট্রাম্পের নিন্দা এড়িয়ে বলেছেন, লন্ডনের অবস্থান ওয়াশিংটনের চেয়ে আলাদা। মিত্রতার সম্পর্কও বজায় রাখতে চায় সরকার।
রাশিয়ার হামলা থামেনি। উল্টো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত বাড়ছে। এমন সময়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তন নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপে। রিফকিন্ডের বক্তব্য সেই ক্ষোভেরই কঠোর প্রকাশ। যুদ্ধের মাঠে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের মূল্য দেন যাঁরা, তাঁরা কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নন। সাধারণ ইউক্রেনীয়রা।



