ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও রাজা তৃতীয় চার্লস
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গতকাল সকালে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর একই প্যালেসে রাজা চার্লসের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন বার্নহ্যাম। সেই বৈঠকেই তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাজা। ব্রিটিশ সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়েই তিনি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
বাকিংহাম প্যালেসে রাজা ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী এই অনুষ্ঠানকে ‘কিসিং অব হ্যান্ডস’ বলা হলেও বাস্তবে কোনো শপথ গ্রহণ বা হাত চুম্বনের আনুষ্ঠানিকতা হয় না। রাজা নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান এবং সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রয়োজনীয় শপথ পরে পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর বাকিংহাম প্যালেস থেকে সরাসরি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও বাসস্থান '১০ ডাউনিং স্ট্রিট'-এ যান বার্নহ্যাম। সেখানে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, দেশের মানুষের রাজনীতির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, গৃহহীনতা কমানো, আবাসন ও শিক্ষা খাতে উন্নয়নেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি ম্যাকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি গত শুক্রবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেবার পার্টির নেতা হন। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর নেতৃত্বের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তিনিই যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। গত এক দশকে দেশটির এটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন, আর রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসনে আরোহণের পর বার্নহ্যাম তার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেছেন বার্নহ্যাম। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই তার সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।




