নিশানায় ড্রোন কারখানা
রুশ গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার
- সুইন্ডনের কারখানায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ
- জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তদন্ত শুরু ব্রিটেনে

অভিযুক্ত জোশুয়া ক্যামিজ
যুদ্ধের ছায়া এবার ব্রিটেনের মাটিতে। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীকে সহায়তা করে ব্রিটিশ ড্রোন কারখানায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠল এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে। তাকে গ্রেফতার করে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ বছর বয়সি জোশুয়া ক্যামিজ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, সুইন্ডনের ড্রোন উৎপাদনকারী কয়েকটি স্থাপনার অবস্থান, মানচিত্রের তথ্য এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন।
ব্রিটিশ পুলিশের অভিযোগ, ক্যামিজ একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করার পাশাপাশি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৩-এর আওতায়।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ক্যামিজ রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-র সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা জিআরইউ ভলান্টিয়ার কর্পস-এর এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ড্রোন কারখানার অবস্থান শনাক্ত করতে গুগল ম্যাপের তথ্য ব্যবহার করেন এবং ওয়াই-ফাই জ্যামিং প্রযুক্তি নিয়েও খোঁজ নেন।
ক্যামিজকে ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা হলে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ওল্ড বেইলিতে তাঁর পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রিটেনের নিরাপত্তা প্রতিমন্ত্রী ড্যান জারভিস বলেন, পুলিশের পদক্ষেপ “একটি সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে সাহায্য করেছে”। তাঁর মতে, রাশিয়া ইউরোপের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে এবং ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করতে নানা ধরনের গোপন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।
তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যামিজকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সতর্কতা বজায় রাখা হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা ও নাশকতার অভিযোগ বেড়েছে। ব্রিটিশ নিরাপত্তা মহলের মতে এবারের ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধে শুধু সীমান্ত নয়, প্রতিরক্ষা শিল্পের অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠছে।



