ডাবলিনে গাড়ির স্ক্র্যাপইয়ার্ডে ভয়াবহ আগুন, পুড়েছে শত শত গাড়ি

প্রতীকী ছবি
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের উত্তরাঞ্চলে একটি গাড়ির স্ক্র্যাপইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত গাড়ি পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যালিবফের উইম্বলটাউন এলাকার ওই স্ক্র্যাপইয়ার্ডে আগুন লাগে। আগুনের কালো ধোঁয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের ডাবলিন শহর থেকেও দেখা যায়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় জরুরি সেবা বিভাগ। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্ক্র্যাপইয়ার্ডে থাকা পুরোনো গাড়ি ও বিপুলসংখ্যক টায়ারে আগুন ধরে যাওয়ায় পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
প্রাথমিকভাবে ডাবলিন ফায়ার ব্রিগেড পাঁচটি অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি ও একটি পানিবাহী ট্যাংকার নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় সেখানে আটটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে ছিল পাঁচটি অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি, একটি ফোম ইউনিট ও দুটি পানিবাহী ট্যাংকার। আগুন নিয়ন্ত্রণে ডাবলিন ফায়ার ব্রিগেডকে সহায়তা করে মিথ ফায়ার সার্ভিস এবং ডাবলিন বিমানবন্দর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস।
আগুনের ধোঁয়া ব্যালিবফের আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে লাস্ক, সোর্ডস, ডোনাবেট এবং প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের ডাবলিন শহরের কেন্দ্র থেকেও দেখা যায়। ধোঁয়ার প্রভাব পড়তে পারে—এমন এলাকার বাসিন্দাদের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয় ডাবলিন ফায়ার ব্রিগেড।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ডাবলিন ফায়ার ব্রিগেডের প্রধান অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা গ্রে ও'ডোয়ার বলেছেন, বাড়িগুলো সরাসরি আগুনের ঝুঁকিতে ছিল না। ধোঁয়া এবং আগুনে বিভিন্ন বস্তু ছিটকে পড়ার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন নেভানোর কাজটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্ক্র্যাপইয়ার্ডে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। এর পাশাপাশি সেখানে গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন দাহ্য উপকরণ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিপুলসংখ্যক গাড়ির টায়ার পুড়ে যাওয়ায় আগুনের তীব্রতার পাশাপাশি কালো ধোঁয়াও বেড়ে যায়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ডাবলিন ফায়ার ব্রিগেড জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এরপর মিথ ফায়ার সার্ভিস এবং ডাবলিন বিমানবন্দর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ডাবলিন ফায়ার ব্রিগেডের দুটি অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি, একটি পানিবাহী ট্যাংকার এবং একজন জেলা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
শনিবার সকালেও অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ছাই ও ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা আগুনের উৎসগুলো পুরোপুরি ঠান্ডা করতে বিশেষ কার্যক্রম চালানো হয়।
ডাবলিন ফায়ার ব্রিগেডের প্রধান কর্মকর্তা গ্রে ও'ডোয়ার গতকাল বলেছেন, আগুনে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার গাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। বিপুলসংখ্যক টায়ার পুড়ে যাওয়ায় আগুনের সময় প্রচণ্ড ঘন কালো ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার সঠিক কারণও এখনও জানা যায়নি। কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে আশপাশের কয়েকটি সড়কও প্রায় দেড় দিন ধরে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।




