রাফাল পাচ্ছে ইউক্রেন, নিজ দেশেই বানাবে পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র

নতুন প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনবে ইউক্রেন- রয়টার্স
ইউরোপীয় ঋণ কর্মসূচির অর্থায়নে প্রথমবারের মতো ফ্রান্স-ইতালির যৌথভাবে তৈরি নতুন প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনবে ইউক্রেন। একই সঙ্গে কিয়েভ ও প্যারিসের মধ্যে মঙ্গলবার চূড়ান্ত হওয়া চুক্তির আওতায় নিজ দেশে পশ্চিমা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতিও পেয়েছে ইউক্রেন।
দুই দেশ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ কর্মসূচির অর্থায়নে ইউক্রেন প্রথম ধাপে ১৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনবে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত ১০০টি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনার এটিই প্রথম চালান।
ফ্রান্স ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় পাইলট ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ ২০২৬ সালেই ফ্রান্সে শুরু হতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর প্রথম চারটি যুদ্ধবিমান ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সোমবার ঘোষিত ক্রয় পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রথমবারের মতো জানানো হয়েছে এ বিবৃতিতে।
ইউক্রেন আরও চারটি নতুন প্রজন্মের সাম্প/টি-এনজি আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে দেশটি যুদ্ধক্ষেত্রে ফ্রান্স-ইতালির যৌথভাবে তৈরি এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকারী প্রথম রাষ্ট্র হবে। নতুন ব্যবস্থা সরবরাহের আগ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণের দুটি ব্যবস্থা ইউক্রেনে পাঠানো হবে।
এই উদ্যোগ সোমবার ইউক্রেন ও কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ঘোষিত বৃহত্তর আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অংশ। এর লক্ষ্য রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে বাড়তে থাকা হামলার মুখে তুলনামূলক কম ব্যয়ের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা।
এ ছাড়া ফ্রান্স ও ইতালি ইউক্রেনকে লাইসেন্সের আওতায় অ্যাস্টার-৩০ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স ইউক্রেনে এএএসএম নির্দেশিত বোমা এবং স্ক্যাল্প ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেরও অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে কিয়েভের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা এবং অতিরিক্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের জন্য কিয়েভের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।




