এক বছরে বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার হিউম্যানয়েড রোবট

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। ছবি: রয়টার্স
বিশ্ব জুড়ে গত বছর বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭ হাজার হিউম্যানয়েড রোবট। শিল্প ও পেশাগত সেবায় ব্যবহার করা হয়েছে এসব রোবট। এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স ফেডারেশন (আইএফআর)।
হিউম্যানয়েড রোবটের বিক্রির সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম। তবে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস রয়েছে, আগামী বছরগুলোয় এ প্রযুক্তির বড় ধরনের বিস্তারের।
বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প রোবটের বাজার চীনে হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত রোবট গেমসে দৌড়ানো ও বক্সিংয়ের মতো কাজ করতে দেখা গেছে এসব রোবটকে।
আইএফআরের বর্তমান হিসাব সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের শিল্প সমিতির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য তৈরি রোবট এবং সামরিক কাজে ব্যবহৃত হিউম্যানয়েড রোবট অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
হিউম্যানয়েড রোবট বলতে শুধু মানুষের মতো দেখতে কোনো রোবটকে বোঝায় না। আইএফআরের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, রোবটটির মানুষের মতো আকৃতি থাকতে হবে। মানুষের জন্য তৈরি পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের মানুষের মতো পা থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আইএফআরের এই তথ্য তুলে ধরেছে প্রযুক্তিটির বর্তমান বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র। কারণ, হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের সক্ষমতার চমকপ্রদ প্রদর্শনীও দেখা যাচ্ছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক আইএফআরের মহাসচিব সুজানে বিয়েলার বলেছেন, বিশ্ব জুড়ে ব্যবহৃত মোট রোবটের তুলনায় হিউম্যানয়েড রোবটের সংখ্যা এখনো একটি ভগ্নাংশ মাত্র।
তুলনাটি আরও স্পষ্ট হয় অন্য ধরনের রোবটের সংখ্যার দিকে তাকালে। ২০২৪ সালে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার সাধারণ শিল্প রোবট স্থাপন করা হয়েছিল।
একই বছরে পরিবহন, আতিথেয়তা ও পরিচ্ছন্নতার মতো কাজে ব্যবহারের জন্য আনুমানিক ১ লাখ ৯৯ হাজার সার্ভিস রোবট বিক্রি হয়।
২০২৫ সালের শিল্প ও সার্ভিস রোবটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করবে আইএফআর।
আইএফআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিক্রি হওয়া হিউম্যানয়েড রোবটের অনেকগুলোই সরাসরি উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত হয়নি। এসব রোবটের কিছু কিনেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান এগুলো ব্যবহার করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল আরও উন্নত করার জন্য তথ্য বা ডেটা সংগ্রহে।
গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। আইএফআরের তথ্য অনুযায়ী, কিছু গাড়ি নির্মাতা তাদের কারখানায় এক অঙ্কের, আবার কখনো দুই অঙ্কের সংখ্যায় হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে পাইলট প্রকল্প চালাচ্ছে।
হিউম্যানয়েড রোবট বলতে শুধু মানুষের মতো দেখতে কোনো রোবটকে বোঝায় না। আইএফআরের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, রোবটটির মানুষের মতো আকৃতি থাকতে হবে। মানুষের জন্য তৈরি পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে।
প্রায় তিন দশক ধরে বিশ্ব জুড়ে রোবটের বাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে আসছে আইএফআর। তবে সংস্থাটি হিউম্যানয়েড রোবটের তথ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ শুরু করেছে এবারই প্রথম।
ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চের হিসাবে, চলতি বছর বিশ্ব জুড়ে ৯০ হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ হতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস দিয়েছে।
আইএফআরের বর্তমান হিসাব সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের শিল্প সমিতির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য তৈরি রোবট এবং সামরিক কাজে ব্যবহৃত হিউম্যানয়েড রোবট অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত রোবটও আলাদা শ্রেণিতে বিবেচনা করা হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স




