শেনজেন সদস্যপদ পেলে বড় সুবিধা পেতে পারে সাইপ্রাস

সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতি নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেস ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে বৈঠকের পর সাইপ্রাসের শেনজেন অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে পূর্ণ সদস্যপদ পেলে পর্যটন, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও পেশাগত গতিশীলতায় বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে সাইপ্রাস। দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেস ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে বৈঠকের পর সাইপ্রাসের শেনজেন অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্রিস্টোদুলিদেস জানিয়েছেন, ইউরোপীয় কমিশনের মূল্যায়নে সাইপ্রাসকে শেনজেন সদস্যপদের জন্য প্রস্তুত বলে ইতিবাচক মতামত দেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর বিচার ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কাউন্সিলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষমাণ।
সাইপ্রাস বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলেও শেনজেন এলাকার বাইরে থাকা শেষ সদস্য দেশ। রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া ২০২৫ সালের শুরুতে শেনজেনে যোগ দেওয়ার পর দেশটির সদস্যপদ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শেনজেনে যোগ দিলে সাইপ্রাস ও অন্যান্য শেনজেন দেশের মধ্যে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ উঠে যাবে। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য সাইপ্রাসে যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে।
বিশেষ করে যারা একই সফরে একাধিক ইউরোপীয় গন্তব্য ভ্রমণ করতে চান, তাদের কাছে সাইপ্রাস আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, খুচরা ব্যবসা, পরিবহনসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শেনজেন সদস্যপদ শুধু পর্যটন নয়, সাইপ্রাসের ব্যবসা ও বিনিয়োগ খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটি বর্তমানে পেশাদার সেবা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
শেনজেনে যোগ দিলে সাইপ্রাসভিত্তিক ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের অন্যান্য শেনজেন দেশে ক্লায়েন্ট, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে সাইপ্রাসে ব্যবসা স্থাপনের আকর্ষণও বাড়তে পারে।
সাইপ্রাসের যোগ্য আবাসিক পারমিটধারী তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্যও শেনজেন সদস্যপদ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তারা শেনজেন অঞ্চলের অন্যান্য দেশে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত চেক ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পেতে পারেন।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের কাছে সাইপ্রাসের আবাসিক ও বিনিয়োগ কাঠামো আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা বাড়লে দেশটির আবাসন বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে এতে স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য বাড়ির দাম নিয়ে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শিক্ষা খাতে শেনজেন সদস্যপদ সাইপ্রাসকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের চলাচল সহজ হতে পারে।
প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সাইপ্রাসভিত্তিক উদ্যোক্তা ও কর্মীরা সহজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্মেলন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
তবে শেনজেন সদস্যপদকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাস্টমস ইউনিয়নের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। শেনজেন মূলত মানুষের চলাচল ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত; এটি পণ্যের ওপর কাস্টমস নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় না।
ফলে সাইপ্রাসের ব্যবসা ও লজিস্টিক খাতে মূল সুবিধা আসবে মানুষের সহজ চলাচল এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণের প্রশাসনিক জটিলতা।
উল্লেখ্য সাইপ্রাসের শেনজেন অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি হতে পারে দ্বীপটিকে বিভক্ত করা গ্রিন লাইন। প্রজাতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও তুর্কি-অধিকৃত উত্তর সাইপ্রাসের মধ্যকার সীমান্তে শেনজেনের বহিঃসীমান্ত নীতিমালা ও নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তুর্কি সাইপ্রেস নেতা তুফান এরহুরমানও এর আগে শেনজেনে সাইপ্রাসের যোগদানের প্রক্রিয়ায় তুর্কি সাইপ্রেসদের সম্পৃক্ততার গুরুত্বের কথা বলেছেন। বিশেষ করে যারা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের নাগরিক নন, তাদের চলাচলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সাইপ্রাসের সরকার দ্রুত সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পাওয়ার চেষ্টা করছে। সদস্যপদ অর্জিত হলে এটি শুধু ভ্রমণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে না—পর্যটন, বিনিয়োগ, আবাসন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে সাইপ্রাসের ইউরোপীয় অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।



