যুক্তরাজ্যে আইআরজিসি সমর্থনের শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ছবি : রয়টার্স
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাজ্য। গত সপ্তাহে পাস হওয়া ‘বিতর্কিত’ ন্যাশনাল সিকিউরিটি (স্টেট থ্রেটস) বিলের অধীনে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন ঘোষণা দিল ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই নতুন আইন ব্যবহার করে আইআরজিসির প্রতি যেকোনো সমর্থন নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা হাতে পেলেন। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ মাটিতে প্রাণনাশের হুমকি ও নানাভাবে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার পার্লামেন্টে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে মাহমুদ জানিয়েছেন, ইতিবাচক মতামত প্রকাশ থেকে শুরু করে সহায়তা প্রদান— আইআরজিসির প্রতি যেকোনো ধরনের সমর্থন এখন ব্রিটিশ কারাগারে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইনটি মূলত আইআরজিসির সেই কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যা সরাসরি যুক্তরাজ্যের জন্য ক্ষতিকর, ইরানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নয়।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সংস্থা হওয়ার কারণে অন্য কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ করতে পারে না। আইআরজিসি ছাড়াও যুক্তরাজ্য এই আইন ব্যবহার করে ইরানপন্থী দল হারাকাত আসহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া (হায়ি) এবং রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর স্বেচ্ছাসেবক সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
ব্রিটেনের সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত এপ্রিলে এই বিলটি দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন । এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যেকোনো সংস্থা যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর মনে হলে সেটিকে হুমকি হিসেবে ঘোষণা করার ব্যাপক ক্ষমতা দেয়।
তবে পর্যালোচনাকারীরা সতর্ক করেছেন, বিলের অস্পষ্ট ভাষা সাংবাদিক ও এনজিও কর্মীদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
যদিও যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানবিরোধী যুদ্ধে যোগ দেয়নি, তবে তারা আমেরিকাকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে প্রায় দুই হাজার ব্রিটিশ-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক ইসরায়েলি বাহিনীতে কাজ করেছে।
ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন-সহ বিভিন্ন সংগঠনকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই




