৫২ বছর পরও বিভক্ত সাইপ্রাস
- নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ

সাইপ্রাসে তুর্কি আগ্রাসনের ৫২তম বার্ষিকী পালিত।
১৯৭৪ সালে তুরস্কের সামরিক অভিযানের পর বিভক্ত হয়ে পড়া সাইপ্রাসে এখনো সেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। দ্বীপটির প্রায় ৩৬ শতাংশ ভূখণ্ড তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে আবারও শান্তি আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই তুর্কি অভিযানের দ্বিতীয় ধাপের ৫২তম বার্ষিকীতে নতুন করে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিদেস।
শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে ক্রিস্টোডুলিদেস বলেন, ৫২ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। বর্তমান অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি সাইপ্রাস ও দেশটির জনগণের ভবিষ্যৎ হতে পারে না। এত বছর পরও ১৯৭৪ সালের ঘটনার ক্ষত শুকায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাইপ্রাস সমস্যার একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে জাতিসংঘের প্রস্তাব, আগের আলোচনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি ও আইনকে ভিত্তি করার কথা বলেন ক্রিস্টোডুলিদেস। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আবারও শান্তি আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
২০১৭ সালে সুইজারল্যান্ডের ক্রানস-মন্টানায় সাইপ্রাস নিয়ে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। সেই আলোচনা পুনরায় শুরু করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের চেষ্টাও ইতিবাচক ফল দিয়েছে বলে জানান ক্রিস্টোডুলিদেস। এ কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সতর্ক আশাবাদী।
১৯৭৪ সালের ১৪ আগস্ট শুরু হয় তুরস্কের সামরিক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ। জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তুরস্ক নতুন করে সেনা মোতায়েন করে অভিযান শুরু করে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে তুর্কি বাহিনী পূর্বাঞ্চলের ফামাগুস্তা ও পশ্চিমাঞ্চলের মরফু শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ট্যাংক ও বিমান সহায়তায় তারা দুই দিকে অগ্রসর হয়।
এর আগে দ্বিতীয় অভিযান শুরুর গোপন সংকেত হিসেবে তৎকালীন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরান গুনেস প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ট এজেভিতকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘আয়শে ছুটিতে যাচ্ছে।’
দুই দফার সামরিক অভিযানে সাইপ্রাসের প্রায় ৩৬ শতাংশ ভূখণ্ড তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার গ্রিক সাইপ্রিয়ট। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার তুর্কি সাইপ্রিয়ট উত্তরাঞ্চলে চলে যান।
সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনস্টান্টিনোস কম্বোস ১৯৭৪ সালের ঘটনাকে ‘কখনো ক্ষমার যোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। দেশটির বর্তমান সরকার ঘটনাটিকে জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখে এবং স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।






