ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সাইপ্রাস

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাইপ্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। দুই পক্ষের সঙ্গেই সাইপ্রাসের সুসম্পর্ক থাকায় দেশটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আয়োজিত এক কর্মমধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদ আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ ও সাইপ্রাসের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গেও সাইপ্রাসের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে দেশটি।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
ফিলিস্তিন ও সাইপ্রাসের সম্পর্কের বিষয়ে আব্বাস বলেছেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে শুধু ভৌগোলিক নৈকট্যই নয়, বরং গভীর মানবিক বন্ধন ও আন্তরিকতাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের অবস্থানের সঙ্গে ফিলিস্তিনের অবস্থানের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানে ইউরোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য কেরেন তিনি।
আব্বাসের মতে, এ অঞ্চলের বিভিন্ন ইস্যুতে ইউরোপের আরও সক্রিয় ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
এদিকে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেস বলেছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট যে ধরনের ভূমিকা উপযুক্ত মনে করবেন, তা পালনে সাইপ্রাস প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।
ক্রিস্টোদুলিদেস আরও বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে সাইপ্রাস এ অঞ্চলের দেশগুলোর উদ্বেগ ও অবস্থান ইউরোপের কাছে তুলে ধরে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা পালন করে দেশটি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসের এ ভূমিকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর স্বীকৃতিও পেয়েছে।
ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সব পক্ষকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।



