বিক্ষোভ ও লুটপাট ঠেকাতে এবার অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে ইতালি

ইতালির মিলানে সপ্তাহজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পর, ১৯ অক্টোবর টহল দিচ্ছে পুলিশ— রয়টার্স
ইতালিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটছে। অস্থিরতার মধ্যেই মঙ্গলবার অপ্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুমোদন করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
নতুন ব্যবস্থায়, ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিপজ্জনক বলে মনে করার মতো প্রমাণ থাকলে কোনো অপরাধ না করলেও তাদের ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত থানায় আটক রাখার অনুমতি পাবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন এ কথা।
শনিবারের পরিকল্পিত বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কায় মিলানে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনেরও পরিকল্পনা করছে রোম।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে আরটিএল রেডিওকে সালভিনি বললেন, ‘আমরা তরুণদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাই।’ মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে রয়েছে নতুন ব্যবস্থাগুলো অনুমোদনের কথা।
সপ্তাহান্তে মিলানসহ ইতালির বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েক শ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেন এবং দোকানপাটে লুটপাট চালান, যাদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে সরকারি পরিষেবার দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।
এ অস্থিরতার সঙ্গে প্রতিবেশী ফ্রান্সের সাম্প্রতিক দাঙ্গার মিল রয়েছে। শনিবার ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভগুলোর একটিতে কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।
২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ধারাবাহিকভাবে কঠোর নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছেন। সমালোচকদের মতে, এসব আইন অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার মূল কারণগুলো সমাধানে খুব বেশি ভূমিকা রাখছে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ইতালির কারাগারগুলোতে বন্দীর সংখ্যা ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংখ্যার হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ১০ হাজার।
বোলোনিয়ার ফৌজদারি মামলার আইনজীবী মারিনা প্রসপেরি বলেন, সরকার নতুন যেসব অপরাধকে আইনের আওতায় এনেছে, সেগুলোর প্রধান প্রভাব হলো বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা। বিশেষ করে বসবাসের অনুমতি বা নাগরিকত্বের আবেদন করা অভিবাসীদের জন্য ঝুঁকি বেশি।
এদিকে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় আগামী বছরের বাজেটে কর কমানো ও ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাপে পড়েছেন মেলোনি। ২০২৭ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে এটিই হবে তার সরকারের শেষ বাজেট।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিকোলা মোলতেনি রেডিও ২৪-কে বলেন, সংসদে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকা নিরাপত্তাবিধিগুলো অবিলম্বে কার্যকর করতে সরকার একটি ‘জরুরি অধ্যাদেশ’ অনুমোদন করবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে এমন নিষেধাজ্ঞাও থাকতে পারে, যাতে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা থাকলে তরুণদের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া যায়।
সালভিনি বলেন, ‘টিকটকে লোকজন বলছে, শনিবার কোমো শহরে তারা দোকানপাটে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শনিবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না আমরা।’



