শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল আটকালেন ফ্রান্সের আদালত

ছবি: রয়টার্স
১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার একটি বিল শুক্রবার আটকে দিয়েছে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত বলেছে, বিলটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর জন্য বড় ধাক্কা তৈরি হয়েছে। তিনি এর আগে সরকারকে বিলটি নতুন করে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিলটি কার্যকর হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকত না। আগে থেকে খোলা অ্যাকাউন্টগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে চার মাসের মধ্যে বন্ধ করতে হতো। একই সঙ্গে তাদের ফরাসি গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাইব্যবস্থা ব্যবহার করতে হতো।
তবে ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ বলেছে, বিলটিতে সবার বয়সের প্রমাণ দেওয়ার কথা বলা হলেও সেই প্রমাণ ‘কীভাবে এবং কোন সীমার মধ্যে’ দিতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। পাশাপাশি এটি স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারেও হস্তক্ষেপ করে।
ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা জুলাইয়ে বিলটি অনুমোদন করেছিলেন। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পর ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে এমন উদ্যোগ নিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। মিশ্র ফলাফল পাওয়ার পর দেশটির আইনপ্রণেতারা এখন আরও কঠোর শাস্তির কথা বিবেচনা করছেন।
চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে, অথবা এমন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ক্ষতিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য থেকে শিশুদের আরও সুরক্ষা দিতে তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এপ্রিল মাসে কিশোর-কিশোরীদের ডিভাইস বন্ধ করে বই পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ম্যাখোঁ। তিনি বলেছিলেন, এর মাধ্যমে তারা আরও ভালো নাগরিক হয়ে উঠবে।







