‘ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত হঠকারিতা’ তীব্র সমালোচনা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীর

ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস।
তার ভাষ্য, এই যুদ্ধের মূল্য এখন দিচ্ছে ব্রিটিশরা, অথচ এই যুদ্ধের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টটা নেই যুক্তরাজ্যের।
‘এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা আমরা শুরু করিনি, যা আমরা চাইনি। কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা কী অর্জন করতে চাইছে, সেই ধারণা ছাড়া এই যুদ্ধে গেছে। এ কারণে আমি খুবই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ’— মিররকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব বলেছেন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী।
‘এই যুদ্ধের ফলে এখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে’—যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল পরিবাহিত হতো, সেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়েছে। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন সতর্ক করেছে, এর ফলে চলতি অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের গড় একটি পরিবার ৪৮০ পাউন্ড পর্যন্ত বেশি ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে। যদিও এই নির্দিষ্ট হিসাবের সঙ্গে একমত নন রিভস।
‘গ্যাস ও বিদ্যুতের দামের ওপর সরকার ‘কড়া নজর’ রাখবে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে ব্রিটেন যোগ দেবে না’ জানান ব্রিটেন অর্থমন্ত্রী।
‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আমরা এ সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি সম্মেলনের আয়োজন করছি’—জানালেন রিভস।
তার ভাষ্য, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে জড়াচ্ছি না, আমরা মনে করি এটি সঠিক পথ নয়। এই সংঘাতজুড়ে আমরা বলে এসেছি, উত্তেজনা কমাও, উত্তেজনা কমাও।
রিভসের অভিযোগ, কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে চেয়েছিল ব্রিটেন ‘দুই পা বাড়িয়ে’ এই সংঘাতে ঝাঁপিয়ে পড়ুক এবং আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপে ভূমিকা নিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তিনি কেন ক্ষুব্ধ—এ প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যর এই অর্থমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্ট এই যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশের জনগণ ও ব্যবসার ওপর।’
তার মতে, সংঘাতের আগে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে ছিল। মূল্যস্ফীতি কম ছিল, সুদের হার আরও কমার পূর্বাভাস ছিল, কমছিল ঋণও। গত বছর ইউরোপে জি–৭-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হওয়ার পর অব্যাহত থাকার কথা ছিল সেই প্রবৃদ্ধি।

