গ্রিসের কাছে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১, নিখোঁজ ২৫

ফাইল ছবি- রয়টার্স
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছে আরও ২৫ জন। নৌকাটিতে থাকা ৭৭ জনের মধ্যে ৫১ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে প্রবল বাতাসের কারণে ব্যাহত হচ্ছে অভিযান।
কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র সোমবার বললেন, ‘এলাকায় থাকা দুটি নৌকা ৫১ জনকে উদ্ধার করেছে।’
তিনি বলেছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় তাতে ৭৭ জন ছিলেন। ক্রিটের কাছে গাভদোস দ্বীপের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়।
তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি নিউজ জানিয়েছে, এলাকায় চারটি জাহাজ, কয়েকটি নৌকা, ফ্রন্টেক্সের উড়োজাহাজ এবং কোস্টগার্ডের একটি হেলিকপ্টার অভিযান চালাচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া ৫১ জনকে ক্রিটে নেওয়া হবে। সেখানে ‘নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে’ বলে জানিয়েছে ইআরটি।
ক্রিটে পৌঁছানোর পর সাধারণত কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয় তাদের। পরে গ্রিসের মূল ভূখণ্ডের আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়।
গ্রিসের আইনে তাদের দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক হেফাজতে রাখা হতে পারে। একই সঙ্গে কঠোর শাস্তি এবং দ্রুত বহিষ্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে ক্রিট ও গাভদোস এখন গ্রিসে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের প্রধান পথ হয়ে উঠেছে।
আগস্টের শেষ দিকে গ্রিসের বার্তা সংস্থা এএনএ দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে দেশটিতে প্রায় ৬১ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তী ১২ মাসে এই সংখ্যা কমে প্রায় ৪২ হাজারে দাঁড়ায়। অর্থাৎ আগমন কমেছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
জুলাইয়ে গ্রিসের রক্ষণশীল সরকার সমুদ্রপথে উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের সব আশ্রয় আবেদন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। সরকার দাবি করেছিল, এতে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর হয়েছে।
ক্রিটে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন বেড়ে যাওয়ার পর এবং প্রবাহ ঠেকাতে লিবিয়ার বেঙ্গাজিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে আলোচনা জুলাইয়ে বাতিল হওয়ার পর পার্লামেন্টে এই নিষেধাজ্ঞা পাস হয়।
ক্রিটে স্থায়ী একটি ট্রানজিট কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে দ্বীপটির আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গ্রিস সরকারের বিরোধ চলছে।
সরকার এমন একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে, যেখানে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানোর বিধান থাকবে। বহিষ্কারের আগে ৩০ দিনের নিয়ম মানার সময় তাদের গোড়ালিতে ইলেকট্রনিক মনিটর পরার বাধ্যবাধকতাও থাকবে।
ইউরোপজুড়ে ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করেছে।
গ্রিস জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসীদের আবেদন প্রক্রিয়া ও যাচাইয়ের জন্য ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েই এসব আলোচনা চলছে।
সূত্র: আলজাজিরা




