ইইউতে ফেরার প্রশ্নে বিভক্তি ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দশ বছর আগে ইউরোপের দরজা বন্ধ করেছিল ব্রিটেন। এখন সেই দরজায় আবার কড়া নাড়ার কথা উঠেছে। কিন্তু চাবি খুঁজতে গিয়েই বিভক্ত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মন্ত্রিসভা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরবে দেশটি? নাকি পুরনো বিচ্ছেদের ক্ষত নাড়ানোই হবে নতুন বিপদ? লন্ডনের ক্ষমতার অলিন্দে আবার সেই প্রশ্ন।
গত শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইনিউজের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেওয়া ২৮ জনের মধ্যে ১৫ জন ইইউতে ফেরার পক্ষে। বাকি ১৩ জন অনিশ্চিত অথবা বিরোধী। তবে সমর্থকরাও একমত নন। ফেরার আগে নতুন গণভোট হবে, নাকি আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়েই আলোচনা শুরু করা হবে, তা নিয়েই টানাপড়েন।
ফেরার পক্ষে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, ওয়েলস-বিষয়কমন্ত্রী স্টিফেন কিনক ও জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহ। স্ট্রিটিং এর আগে ব্রেক্সিটকে ‘বিপর্যয়কর ভুল’ বলেছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবামন্ত্রী ইভেট কুপারের অবস্থান সতর্কতামূলক। পরিবহনমন্ত্রী হাইডি আলেক্সান্ডারও পুরনো বিভাজন ফিরিয়ে আনার বিপদ স্মরণ করিয়েছেন।
এক সাবেক মন্ত্রীর ভাষায়, বাস্তব প্রয়োজন মেনে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো আর পুরোপুরি ফিরে যাওয়া এক নয়। ফেরার প্রচার শুরু হলে সমাজে পুরনো বিরোধ নতুন করে জেগে উঠতে পারে। বিশেষ করে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে দলকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিটেনে ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোটে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় দেন। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। পরের বছরের শুরুতে একক বাজার ও শুল্ক ইউনিয়নের বাইরে যায় দেশটি। ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা, অভিবাসন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশ্নে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আজও থামেনি।
সেপ্টেম্বরে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বার্নহ্যাম বলেছিলেন, ব্রেক্সিট উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে। তিনি শুল্ক ইউনিয়ন, একক বাজার কিংবা পূর্ণ সদস্যপদে ফেরাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। তবে নতুন গণভোট এখনই উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত শুক্রবার সরকারের সংসদীয় জবাবেও বলা হয়েছে, বর্তমান সংসদের মেয়াদে একক বাজার ও শুল্ক ইউনিয়নে না ফেরার প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে।
অনেকে চান, ২০২৯ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ইইউতে ফেরার আলোচনা শুরুর জন্য জনসমর্থন চাওয়া হোক। চুক্তি সন্তোষজনক না হলে আলোচনা থেকে সরে আসার সুযোগ রাখার পক্ষেও মত রয়েছে।
৮ অক্টোবর প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইট ইউগভের জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ফেরার চুক্তি হলে গণভোট দরকার। সম্ভাব্য গণভোটে ৫২ শতাংশ ফেরার পক্ষে, ২৭ শতাংশ বিপক্ষে। সিদ্ধান্ত তাই শুধু মন্ত্রিসভার নয়, ভোটারদেরও।



