জনসংখ্যা ১ কোটিতে রাখতে সুইজারল্যান্ডে গণভোট

সংগৃহীত ছবি
অভিবাসন কি সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ নাকি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ওপর একটি বাড়তি চাপ? এই জটিল ও স্পর্শকাতর প্রশ্নের মীমাংসায় গতকাল রবিবার (স্থানীয় সময়) ঐতিহাসিক এক গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সুইজারল্যান্ডে। দেশ জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেওয়া এই গণভোটের মূল প্রস্তাব— আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে কোনোভাবেই দেশের জনসংখ্যা এক কোটি অতিক্রম করতে দেওয়া যাবে না।
ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি প্রস্তাবটির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিল। দলটির দাবি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আবাসন, সরকারি চাকরি ও পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। তারা এটিকে ‘টেকসই উদ্যোগ’ হিসেবে তুলে ধরছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, এটি কার্যকর হলে হাসপাতাল, হোটেলসহ বিভিন্ন খাতে কর্মীসংকট দেখা দেবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২০০২ সালে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে ৯১ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২৭ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। অনেক নাগরিক ট্রেনে ভিড়, উচ্চ ভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
সুইজারল্যান্ডে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র পদ্ধতিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোট হয়। এ ধরনের ভোট আয়োজনের জন্য এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহই যথেষ্ট।


