ট্রেনে চড়ছে হাঁস মুরগি ও ছাগল!

চীনের একটি ট্রেনের ভেতরে জীবন্ত পশু হাঁটতে দেখা গেছে। এই ধীরগতির ট্রেনটি কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে, যাতে তারা গ্রামাঞ্চল থেকে তাদের গবাদিপশু ও কৃষিপণ্য শহরে নিয়ে যেতে পারেন।
বিলাসবহুল বুলেট ট্রেন আর আধুনিক প্রযুক্তির দেশ হিসেবে চীনের নাম সবার মুখে মুখে থাকলেও দেশটির এক অন্যরকম রূপ এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। চীনের আনাচে-কানাচে এমন কিছু বিশেষ ট্রেন চলে যেখানে যাত্রীদের সাথে সহযাত্রী হিসেবে থাকে জ্যান্ত ছাগল, শুকর, মুরগি আর হাঁস। শুনতে অবাক লাগলেও দেশটির ‘জনকল্যাণমূলক ট্রেন’ বা পাবলিক ওয়েলফেয়ার ট্রেনগুলো বছরের পর বছর ধরে এই অদ্ভুত কিন্তু দরকারি সেবা দিয়ে আসছে।
এই ট্রেনগুলো দেখতে চীনের সাধারণ হাই-স্পিড ট্রেনের মতো ঝকঝকে কিংবা গতির দিক থেকে খুব একটা দ্রুত নয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকদের জন্য এটি এক আশীর্বাদ হয়ে দাড়িয়েছে। এই ট্রেনগুলো সরাসরি গ্রামকে শহরের সাথে যুক্ত করে দেয়। ফলে গ্রামের চাষিরা সহজেই তাদের উৎপাদিত ফসল কিংবা লালন-পালন করা গবাদি পশু নিয়ে শহরের বড় বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে পারেন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো এই ট্রেনের ভাড়ার হার। আধুনিক যুগে যখন যাতায়াত খরচ আকাশচুম্বী, তখন এই ট্রেনের টিকিটের দাম মাত্র ২ ইউয়ান, যা বাংলাদেশী টাকায় মাত্র প্রায় ৩৬ টাকার মতো। এত অল্প টাকায় নিজের ব্যবসার মালামাল আর গবাদি পশু নিয়ে শহরে যাওয়ার কথা ভাবাই যায় না। সিজিটিএন এর প্রতিবেদক ভার্গব শর্মা দেখিয়েছেন যে, চীন প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেলেও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে তারা ভুলে যায়নি।
চীনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক যখন বিশ্বজুড়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই ধীরগতির ট্রেনগুলো নিশ্চিত করছে যাতে উন্নয়নের সুফল দেশের প্রান্তিক মানুষও পায়। আধুনিকতার জোয়ারে কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই সরকার এই লোকসানি ট্রেনগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষক আর খামারিদের জন্য এই ট্রেনগুলো এখন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং তাদের জীবন-জীবিকার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।




