কৌশিকী চক্রবর্তী
শুধু গান নয় অরিজিতের জীবনদর্শনকেও অনুসরণ করা উচিত

কৌশিকী চক্রবর্তী ও অরিজিৎ সিং
গানের জগতের মহাতারকা হয়েও অরিজিৎ সিং যেভাবে সাধারণ জীবনযাপন করেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। সাধারণত বড় তারকারা অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক এবং নিজেদের নিয়ে সচেতন থাকেন, কিন্তু অরিজিৎ এর উল্টো। তিনি জিয়াগঞ্জের সেই সাধারণ ছেলেটি হয়েই থাকতে ভালোবাসেন। দামি গাড়ি বা আলিশান বাড়ির মোহে তিনি কখনোই আটকে পড়েননি। বছরের পর বছর এই সাধারণ জীবন বজায় রাখা কোনো অভিনয় নয়, বরং এটি তার প্রবল আত্মবিশ্বাসের পরিচয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সফল হতে গেলে শেকড়কে ভুলে যেতে হয় না।
আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে তার সহকর্মী কৌশিকী চক্রবর্তী তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। অরিজিতের সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেক বছরের। বয়সে ছোট হওয়ায় অরিজিৎকে তিনি ছোট ভাইয়ের মতোই স্নেহ করেন। অনেক ছোটবেলা থেকেই তাকে বড় হতে দেখেছেন। মজার ব্যাপার হলো, প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগেই তিনি ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের মাধ্যমে অরিজিতের কণ্ঠে একটি গজল শুনেছিলেন, যা অরিজিৎ আজও গাইতে খুব পছন্দ করেন। জিয়াগঞ্জের প্রতি অরিজিতের যে টান এবং সেখানে তিনি যে সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছেন, তাতে সব সময় কৌশিকীর সমর্থন রয়েছে।
অরিজিতের গান যেমন মানুষকে মুগ্ধ করে, তার মানবিকতাবোধও সমানভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। তার ভেতর এবং বাইরের মানুষটা একদম এক, সেখানে কোনো লুকোছাপা নেই। নতুন প্রজন্মের যারা সংগীতে আসতে চান, তাদের উদ্দেশে কৌশিকী বলেছেন যে শুধু অরিজিতের গান নয়, বরং তার জীবনদর্শনকেও অনুসরণ করা উচিত। সফল হতে গেলে যে ভালো মানুষ হওয়া যায় না, এই ভুল ধারণা অরিজিৎ ভেঙে দিয়েছেন। আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে চিনতে পারা এবং নিজের মাটিকে ভালোবাসার যে শিক্ষা তিনি দিচ্ছেন, তা পুরো বিনোদন জগতের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
অরিজিৎ সিং সম্প্রতি এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আর সিনেমার জন্য প্লেব্যাক করবেন না। অনেকের কাছে এটি দুঃসংবাদ মনে হলেও তার ঘনিষ্ঠজনরা বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তাদের মতে, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং একজন শিল্পীর মুক্তির আনন্দ। প্লে-ব্যাকের নির্দিষ্ট গণ্ডি মুছে দিয়ে অরিজিৎ এখন নিজের জন্য, নিজের মতো করে গান বাঁধবেন। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মাঝে এমন সিদ্ধান্ত কেবল একজন প্রকৃত শিল্পীর পক্ষেই নেওয়া সম্ভব, যা তার ক্যারিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।




