ইমরান খানের প্রশ্নে অনড় দুই পক্ষ, সংকটে পাকিস্তান

ইমরান খান। ইনসেটে ডনের সম্পাদকীয়
রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার সদিচ্ছা থাকলে জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা চেয়ারম্যান মাহমুদ খান আচাকজাইয়ের সঙ্গে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিতে পারে পাকিস্তান সরকার। মাহমুদ খান একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, যিনি দল-মত-নির্বিশেষে সম্মানিত। তবে পিএমএল-এন নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এখন আত্মসমালোচনার মানসিকতায় নেই বলেও মনে করছে দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডন।
ডনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় নির্বাচিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর সংসদের যৌথ অধিবেশনেও সেই সিদ্ধান্তের অনুমোদন আদায় করেছে সরকার। এই পদক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
এর আগে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেয় দেশটির বিরোধী জোট তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি)। কারাবন্দি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত আলোচনায় ফিরবে না বলে জানায় জোটটি। এ বিষয়ে সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয় মাহমুদ খানের হাতে।
ডনের ভাষ্য, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির পেছনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তারা ছাড়া খুব কম মানুষই সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তিতে আস্থা রাখছেন। সমালোচকদের মতে, নিরাপত্তা বা সন্ত্রাস দমনে প্রাদেশিক প্রশাসনের উদাসীনতার যুক্তি দেখিয়ে সরকার ও তার মিত্ররা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সেখানে চাপিয়ে দেওয়া এই শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও কম, কারণ শুরু থেকেই এটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
অপরদিকে দেশটিতে পিটিআই সরকারের পতনের পর পেরিয়ে গেছে সাড়ে চার বছর। এরপরও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারেনি পরবর্তী সরকারগুলো। এই সময়ে মানুষ শুধু ‘কৃচ্ছ্রসাধন’ ও ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার’ কথা শুনেছে। দীর্ঘস্থায়ী বহুমুখী সংকট থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব যাদের, তাদের অনেকেই সমস্যা সমাধানের বদলে পরস্পরের ওপর দোষ চাপিয়েছেন ও অভিযোগ তুলেছেন। ফলে প্রতিদিনই শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে।
পিটিআইয়ের প্রতিবাদ মিছিল এবং তা ঘিরে সরকারের প্রতিক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি শাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিবেচনায় সামান্য একটি ঘটনা। সরকার বুঝতে পারছে না, ক্ষমতায় থাকার স্বল্প সময়েই মধ্যেই পিটিআই একই ফাঁদে পড়েছিল। বিশেষ করে পিটিআই ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধীদের দুর্নীতির অভিযোগে হয়রানি করতেই বেশি মনোযোগী ছিল। পরের সরকারগুলোও পিটিআইকে রাজনৈতিক পরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে। ফলে সবাই মূল সংকটটি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
একদিকে অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপে, সংকট সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের শিকার। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও জনবহুল একটি দেশের রাজনীতি এভাবে প্রতিহিংসায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া দুঃখজনক। এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছে ডন। সংবাদমাধ্যমটির মতে, মাহমুদ খান এরই মধ্যে আলোচনায় ফেরার একটি পথ বাতলে দিয়েছেন। সরকারের উচিত সেই সুযোগ কাজে লাগানো।




