নেপাল-তিব্বতে মৃত্যু বেড়ে ৭৫০

নেপালের গালছিতে আকস্মিক বন্যার পর ভেঙে যাওয়া সেতুর পাশ দিয়ে চলাচল করছে একটি অটোরিকশা। ছবি: রয়টার্স
চীনের তিব্বত ও পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। এর মধ্যে নেপালে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩৪ জন। আর তিব্বতের গিয়ারং কাউন্টিতে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।
চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সেখানে এখনও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এরমধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
তিব্বতের কর্মকর্তারা আজ রবিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিব্বতের নেপাল সীমান্ত এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ২৩ দেশের নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৪ জন নেপালের। এছাড়া ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এবং যুক্তরাজ্যের রয়েছেন ১৫ জন নাগরিক। বেইজিং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনকে বিষয়টি জানিয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় নেপাল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখলেও দেশটিতে নিখোঁজ রয়েছে প্রায় দুই হাজার ৫শ মানুষ। ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় আট হাজার মানুষকে। এরমধ্যে আড়াইশর মতো মানুষ ছিলেন আহত, যাদের কেউ কেউ চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।
এর আগে, গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ধসে নেমে আসে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত। এতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় হয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
উদ্ধার অভিযান চললেও দেখা দিয়েছে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, কাছের ত্রিশূলি নদীর পানি গত কয়েক ঘণ্টায় বেড়েছে। এতে বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে উঁচু এলাকায়।
এই দুর্যোগের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যোগসূত্রের কথা জানিয়েছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতার কারণে ঘটেছে এই দুর্যোগ।
সূত্র : রয়টার্স ও বিবিসি









