আমগাছ বাঁচাল নেপালি শ্রমিকের প্রাণ

নেপালের রাসুয়া জেলার বিদুর এলাকা কাদামাটিতে ভরে গেছে। ছবি : রয়টার্স
নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল বুধবার নতুন নির্মিত একটি বাড়ির বাইরে শৌচাগারের জন্য গর্ত খুঁড়ছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রচণ্ড শব্দে ধেয়ে আসে পানি, কাদা আর পাথরের স্রোত।
মুহূর্তেই চারপাশের সবকিছু ভেসে যেতে শুরু করে। স্রোতের সঙ্গে ভেসে যান ২৪ বছর বয়সী বিবেকও।
চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের হিমালয়ঘেঁষা রাসুয়া জেলার নিচের দিকে এলাকা বিদুরে কাজ করছিলেন বিবেক। যেখানে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটের কিছু পর ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যার স্রোত শুরু হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নেপালে কমপক্ষে ১৬৫ জন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫৭৯ জন।
এছাড়া তিব্বতেও নিহত হয়েছেন তিনজন। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন।
কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারের হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিবেক বলেছেন, ‘হুট করে ভূমিকম্পের মতো বিশাল গর্জন করে নদীর পানি আমার দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে। এরপর আমি দৌড়াতে শুরু করি।’
তার দাবি, প্রায় পাঁচ ফুট গভীর গর্তে নেমে কাজ করার সময় হঠাৎ শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পান। গর্তের ওপরে থাকা তার চার সহকর্মী চিৎকার করে তাকে দ্রুত বের হয়ে দৌড়াতে বলেন।
তার ভাষ্য, বিবেক গর্ত থেকে বের হওয়ার আগেই তার সহকর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। কোনোমতে গর্ত থেকে উঠে তিনিও দৌড় শুরু করেন। কিন্তু এর মধ্যেই যেন পানি ভূমিকম্পের মতো গর্জন তুলে তার দিকে ধেয়ে আসতে থাকে।
হাসপাতালে তার ভাই দিনেশ তখন পাশে বসে ছিলেন।
বিবেক আরও বলেছেন, প্রচণ্ড স্রোত তাকে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর একটি আমগাছে আটকে যান তিনি।
তিনি বলেছেন, ‘ভাগ্য ভালো, আমি একটি আমগাছে আটকে গিয়েছিলাম। আমগাছটি না থাকলে স্রোতে ভেসে গিয়ে হয়তো আমার মৃত্যু হতো।’
ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার হাসপাতালের বাইরে তখন হতাহতদের স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করতে শুরু করেছেন।
সূত্র : রয়টার্স







