পর্যটকদের ‘প্রস্থান কর’ ৩ গুণ বাড়াল জাপান

জাপান ত্যাগকারী সব ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রেই এই কর প্রযোজ্য হবে- রয়টার্স
পর্যটকের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘প্রস্থান কর’ নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক পর্যটক কর তিন গুণ বাড়িয়েছে জাপান। আগে এই করের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ইয়েন। এখন তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।
জাপান ত্যাগকারী সব ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রেই এই কর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বিদেশি পর্যটক ও জাপানি নাগরিক, উভয়কেই এই কর দিতে হবে।
বিমান ও প্রমোদতরির টিকিটের মূল্যের সঙ্গে এই কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে। ফলে দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দরে আলাদা করে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত আয় অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ মোকাবিলা এবং পর্যটকদের জন্য দেশের অবকাঠামো ও সক্ষমতা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে এই কর থেকে বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি ইয়েন রাজস্ব আসে। কর বৃদ্ধির ফলে তা বেড়ে প্রায় ১২ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছাবে বলে আশা করছে সরকার।
দেশটিতে স্বল্পমেয়াদি পর্যটন ভিসার ফিও পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছে। একবার প্রবেশের ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন এবং একাধিকবার প্রবেশের ভিসার ফি ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ হাজার ইয়েন।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকরা স্বল্পমেয়াদি ভিসার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পান। তবে চীন, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো দেশের নাগরিকদের এই ভিসা নিতে হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্বল্পমেয়াদি ভিসার আবেদনকারীদের ৭০ শতাংশের বেশি ছিলেন চীনা নাগরিক। ওই বছর ইস্যু করা ভিসার সংখ্যা ছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধু ২০১৯ সালেই দেওয়া হয়েছিল এর চেয়ে বেশি ভিসা।
২০২৫ সালে জাপানে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বছরে ৬ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি।




