মা-বাবা, স্বামীসহ পরিবারের সবাই নিখোঁজ

বন্যায় পরিবারের সবাইকে হারিয়েছেন তিনি। ছবি: বিবিসি
নেপালের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম নুয়াকোট। এখানকার একটি সেনা ক্যাম্প পরিণত হয়েছে উদ্ধারকেন্দ্রে। কেন্দ্রটির সামনে শত শত মানুষের দীর্ঘ সারি। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে তাদের অপেক্ষা। যদি খোঁজ মেলে প্রিয়জন, স্বজন কিংবা বন্ধুর।
উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত ক্যাম্পটির ভেতরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক নারী। তার কোলে জড়ানো একটি শিশু। মা-বাবা, স্বামীসহ ওই নারীর পুরো পরিবার নিখোঁজ। তার মানসিক অবস্থা মোটেও ভালো থাকার কথা নয়। নির্মমতার আড়ালে মনে এখনো আশা— স্বজনদের সন্ধান যদি পাওয়া যেত।
তার মতো মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অনেকেই ক্যাম্পে জড়ো হয়েছেন। আবার কেউ কেউ অলৌকিকভাবে দুর্যোগ থেকে বেঁচে যাওয়ার গল্প শোনাচ্ছেন।
রাসুওয়ায় কর্মরত এক গাড়িচালক বিবিসিকে জানান, বন্যার আঘাতে তিনি ছিটকে পড়েন পানিতে। কীভাবে যে বেঁচে ফিরেছেন, তা নিজেও বুঝতে পারছেন না। বেঁচে ফেরায় সৃষ্টিকর্তার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু তার মানসিক অবস্থাও ভালো নেই। বন্যায় হারিয়েছেন ২০ জনের বেশি বন্ধু।
সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি অন্যমনস্ক। বানের জলে ভেসে যাওয়াদের আর্তনাদে তার চোখে শুধুই জল।
এর মধ্যে ষাট-সত্তর বছরের এক বৃদ্ধাকে হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করে আনা হলো। চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় ক্যাম্পের ভেতরে। হঠাৎ করেই তিনি ঢলে পড়েন। পরে জানা যায়, তিনি মারা গেছেন।
ক্যাম্পটিতে প্রতি ঘণ্টায় ডজন ডজন হেলিকপ্টারের আসা-যাওয়া। চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন বহু মানুষ।
যখনই কোনো হেলিকপ্টার নেমে আসে, মানুষ তীব্র আশা নিয়ে সেদিকে তাকায়— যদি তাদের প্রিয়জন ভেতরে থাকে। এমনকি হেলিকপ্টার ল্যান্ড করার সময় ধেয়ে আসা প্রবল বাতাস আর কাদা গায়ে লাগলেও মানুষ চোখ সরায় না। সবারই দৃষ্টি সজাগ, ভেতরে কে আছে একঝলক দেখার আশায়।








