আসিয়ান প্রতিরক্ষা বৈঠকে চীন-ফিলিপাইন উত্তেজনা

ছবি: রয়টার্স
দুই দিনের আসিয়ান প্রতিরক্ষাবিষয়ক বৈঠকের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার আবারও চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চীনের অভিযোগ, ফিলিপাইনের এক রাজনীতিক তাদের বৈঠকে অংশগ্রহণে বাধা দিয়েছেন। তবে ম্যানিলা বলেছে, নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে বেইজিং।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আসিয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্প্রসারিত বৈঠকে চীনের অংশগ্রহণে ‘নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট’ এক রাজনীতিক বাধা সৃষ্টি করেছেন। তবে ওই রাজনীতিকের পরিচয় প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং বলেন, ওই রাজনীতিকের কর্মকাণ্ড বৈঠকের উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার পরিপন্থী। এটি কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করেছে এবং সংলাপের অংশীদার হিসেবে চীনের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।
ফিলিপাইনের সেবুতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দং জুনের পরিবর্তে দেশটির একজন সামরিক অ্যাটাশে অংশ নেন। ধারণা করা হচ্ছে, দং জুন এ সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষাসচিব গিলবার্তো তেওদোরো। চীনের বাধা পাওয়ার অভিযোগের সরাসরি জবাব না দিলেও তিনি বলেছেন, বেইজিংকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আসিয়ানের অন্য কোনো সদস্যও এ ধরনের উদ্বেগ জানায়নি।
সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে তেওদোরো বললেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছে। এতে সামান্য কিছু সংযোজন ছিল।’
ফিলিপাইন জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বৈঠকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছিল।
তেওদোরো বললেন, ‘আমরা মতবিনিময়কে প্রাণবন্ত হতে দিয়েছি। আমার মনে হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—নিজেদের কথা বলার সুযোগ পাওয়া।’
বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে বারবার মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তেওদোরোর ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে বেইজিং ও ম্যানিলার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
বার্ষিক এ বৈঠকে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। দক্ষিণ চীন সাগরসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তারা। তবে বৈঠকের শেষ মুহূর্তের এই বাগবিতণ্ডা চীন-ফিলিপাইন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।



