দুর্যোগে নিহত অন্তত ৪০
মিয়ানমারে বন্যাদুর্গত এলাকায় জান্তার বোমা হামলা

সংগৃহীত ছবি
বন্যা ও ভূমিধসে বিধ্বস্ত মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেনাসারিম (তানিমাথাই) অঞ্চলের দাওয়েই জেলা। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলোর দাবি, দুর্যোগের কারণে এলাকাটিতে অন্তত ৪০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। শত শত বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এই এলাকায় বোমা ও গোলা বর্ষণ করেছে দেশটির জান্তা বাহিনী।
লঘুচাপের কারণে ব্যাংককে বন্যা দেখা দিয়েছিল। সেই বন্যার প্রভাবে দাওয়েই জেলার তিনটি জনপদে প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধস শুরু হয়। এতে বুধবারের মধ্যেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে লাউংলোনে ২৯ জন, থায়েতচাউংয়ে ৯ জন এবং দাওয়েইতে দুজন রয়েছেন। এ ছাড়া লাউংলোনে এখনও ২০ জন নিখোঁজ। সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা।
ভূমিধসে দাওয়েই জেলার অন্তত ২৫ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি গ্রাম পুরোপুরি বিধ্বস্ত। জেলা জুড়ে ১৫টি সেতু এবং অন্তত ২৬০টি ঘরবাড়ি বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্দশা সত্ত্বেও জান্তা সরকার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা করার বদলে বিমান হামলা, কামানের গোলা বর্ষণ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে জান্তার চীন নির্মিত দুটি কে-৮ডব্লিউ হালকা যুদ্ধবিমান থায়েতচাউং জনপদের পি তায়েং গ্রামে বোমাবর্ষণ করে, যা জেলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বন্যাদুর্গত এলাকা। এর ঠিক একদিন আগে বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে অপর একটি যুদ্ধবিমান দাওয়েইয়ের ইয়াওয়াইং গ্রামে বোমাবর্ষণ করেছিল। ভাগ্যক্রমে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জান্তার হামলার মধ্যেই উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কিছু লাশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাউংলোন জনপদে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ছয়টি গ্রামের আশপাশের এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: দ্য ইরাবতী




