সীমান্ত ‘দুর্ভেদ্য’ করার ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার, দক্ষিণকে হুমকি

২১ অক্টোবর উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে বিভিন্ন স্থানে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এবং উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর মার্শাল পাক জং চন পরিদর্শন করেন— রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তকে ‘দুর্ভেদ্য’ করে তোলার অঙ্গীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে যেকোনো উসকানির জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক ও বিধ্বংসী’ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বুধবার জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্শাল পাক জং চনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন কিম ইয়ো জং। এ সময় সীমান্তের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজ পরিদর্শন করেন তারা।
সেখানে সেনাদের যেকোনো হুমকির মুখে ‘দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দেন কিম ইয়ো জং।
উত্তর কোরিয়ার উসকানির জবাবে ‘চূড়ান্ত’ পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এর আগে সীমান্তে অতিরিক্ত কৌশলগত হামলার সক্ষমতা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছিল পিয়ংইয়ং। এর পরই সীমান্ত পরিদর্শনে যান কিম ইয়ো জং।
দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে লাউডস্পিকারে প্রচার চালানোও আবার শুরু করার হুমকি দিয়েছেন কিম ইয়ো জং।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সেনাদের লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগও করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে উত্তর কোরিয়া সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এ সময় সামরিক সীমানা রেখা বরাবর স্থলমাইন পুঁতে রাখা, কাঁটাতারের বেড়া বসানো এবং ট্যাংকবিধ্বংসী প্রতিবন্ধক নির্মাণ করেছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছেন কিম জং উন। দেশটিকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসানে অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ অঞ্চল দুই কোরিয়াকে আলাদা করে রেখেছে।
সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনারা বারবার সামরিক সীমানা রেখার (এমডিএল) কাছাকাছি চলে গেছেন, এমনকি কখনো কখনো তা অতিক্রমও করেছেন। এর জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, চলতি বছর সীমান্তে ৭ হাজার পর্যন্ত শ্রমিক পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এ সময়ে ডিএমজেডকে দুই ভাগে বিভক্ত করা সামরিক সীমানা রেখা প্রায় ৫০ বার অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে প্রবেশ করেছে উত্তর কোরিয়ার সেনারা।
গত মাসের শুরুর দিকে ডিএমজেডে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘ কমান্ড এ ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনকে দায়ী করেছে। তবে এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং।
অভিযোগগুলোকে ‘ইচ্ছাকৃত, পূর্বপরিকল্পিত ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন পাক জং চন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী অন্য যেকোনো পক্ষের চেয়ে ভালো জানে আমাদের সীমান্ত কোথায়। আর আমরা নিজেদের ভূখণ্ডে যা করা উচিত, তা-ই করছি।’
সেনাদের সীমান্তকে ‘দুর্ভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করার নির্দেশও দিয়েছেন পাক। একই সঙ্গে ‘বেপরোয়া শত্রুর উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে অত্যন্ত দক্ষ, বিশেষায়িত ও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট




