মাস্ক এখন ৮০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক, শীর্ষ ১০ ধনীর কার সম্পদ কত

ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও শেয়ারবাজারের উল্লম্ফনে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক সম্পদের মানচিত্র। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ এখন ইলন মাস্ক। প্রায় ৮০১ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তিনি শুধু বিশ্বের শীর্ষ ধনীই নন, ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিও।
বিশ্বের সেরা ধনীর তালিকায় নিজেকে যেন প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তির সম্পদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। গত বছরের শেষ দিকে ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তার সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি ৮০০ বিলিয়ন ডলারের সীমাও ছাড়িয়ে যান।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।
ফোর্বসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে ইলন মাস্কের পর রয়েছেন প্রযুক্তি, ই-কমার্স, বিলাসপণ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রভাবশালী উদ্যোক্তারা। দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় কারা আছেন এবং তাদের সম্পদের পরিমাণ কত।
ওয়ারেন বাফেট (১৪৩.৪ বিলিয়ন ডলার)
শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ১০ নম্বরে আছেন বিনিয়োগ জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে পরিচিত ওয়ারেন বাফেট। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের মাধ্যমে তিনি কয়েক দশক ধরে বিশ্বের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারীদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগ কৌশলের জন্য তাকে বিশ্বজুড়ে অনুসরণ করা হয়। সম্পদের বড় অংশ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দাতব্য ব্যক্তিত্বেও পরিণত হয়েছেন।
বার্নার্ড আর্নল্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি (১৪৯.৩ বিলিয়ন ডলার)
বিশ্বের বৃহত্তম বিলাসপণ্য সাম্রাজ্য এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্ট। লুই ভিতোঁ, ডিওর, সেফোরাসহ ৭৫টির বেশি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। ফ্যাশন ও বিলাসপণ্য খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন তিনি।
জেনসেন হুয়াং (১৮০ বিলিয়ন ডলার)
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এনভিডিয়া বর্তমানে এআই চিপ তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং হুয়াংয়ের সম্পদও দ্রুত বেড়েছে।
মার্ক জাকারবার্গ (২০১ বিলিয়ন ডলার)
মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করে প্রযুক্তি জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন মার্ক জাকারবার্গ। বর্তমানে মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন।
মাইকেল ডেল (২২৯.২ বিলিয়ন ডলার)
মাইকেল ডেল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডেল টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ২০১৬ সালে কম্পিউটার স্টোরেজ জায়ান্ট ইএমসিকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণের মাধ্যমে ডেল টেকনোলজিস গঠিত হয়। মাইকেল ডেলের সম্পদের বড় একটি অংশ তাঁর ব্যক্তিগত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডিএফও ম্যানেজমেন্টে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন হোটেল খাতে অংশীদারিত্বের পাশাপাশি করপোরেট ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ করে থাকে।
জেফ বেজোস (২৫৪.৮ বিলিয়ন ডলার)
১৯৯৪ সালে নিজের গ্যারাজ থেকে অ্যামাজনের যাত্রা শুরু করেছিলেন জেফ বেজোস। আজ সেটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। অ্যামাজনের পাশাপাশি তিনি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক।
ল্যারি এলিসন (২৬০.১ বিলিয়ন ডলার)
ডেটাবেজ সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী উদ্যোক্তা। ওরাকলের প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসায় ওরাকলের অগ্রগতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সের্গেই ব্রিন (২৭৩.৬ বিলিয়ন ডলার)
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা। অ্যালফাবেটের শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি এবং এআই প্রযুক্তিতে গুগলের অগ্রগতির ফলে তাঁর সম্পদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য ও জলবায়ু গবেষণায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন।
ল্যারি পেইজ (২৯৬.৭ বিলিয়ন ডলার)
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সময় সের্গেই ব্রিনের সঙ্গে মিলে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি অ্যালফাবেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার এবং প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
ইলন মাস্ক (৮০১ বিলিয়ন ডলার)
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক এখন ইলন মাস্ক। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এই উদ্যোক্তা প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবহন খাতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি এক্সএআই, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান দ্য বোরিং কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা।














