ইরান যুদ্ধ যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার তিমিদের জন্য হুমকি

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যে জ্বালানি, সার, ওষুধ ও হিলিয়ামের বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনীতিতে। এখন বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে ফেলছে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলের তিমিগুলোকেও।
লোহিত সাগর, সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলায় দক্ষিণ আফ্রিকার চারপাশে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে লোহিত সাগরে হুতি হামলার কারণে প্রথমে কোম্পানিগুলোকে জাহাজের রুট পরিবর্তন করতে হয়। পরে হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ঘিরে নিষেধাজ্ঞা ও হামলা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে, ফলে আরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল শুরু করে।
গবেষকেরা বলছেন, এতে তিমিগুলোর জাহাজের ধাক্কায় আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক তিমি কমিশনের এক বৈঠকে উপস্থাপিত গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল ক্রমেই জাহাজ চলাচলে ভিড়াক্রান্ত হয়ে উঠছে, যা ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তিমিদের জন্য তৈরি করছে হুমকি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পোর্টওয়াচ মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকার চারপাশ দিয়ে চলাচল করেছে। ২০২৩ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪।
দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় ৪০টির বেশি প্রজাতির তিমি বাস করে। এর মধ্যে রয়েছে সাউদার্ন রাইট তিমি, হামব্যাক তিমি ও ব্রাইডস তিমি। এছাড়া ওরকা, স্পার্ম তিমি, মিনকে তিমি ও ডলফিনও সেখানে দেখা যায়। বিপুল সংখ্যক হামব্যাক তিমি প্রতিবছর অ্যান্টার্কটিকায় যাওয়ার আগে কেপের কাছে খাদ্য গ্রহণ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এদের সংখ্যা ১১ হাজার থেকে ১৩ হাজারের মধ্যে।
প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলস ভারমিউলেন জানান, তিমিগুলো অনেক সময় সামনে আসা বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকে না। তিনি এএফপিকে বললেন, ‘উচ্চ ঘনত্বের হামব্যাক তিমির উপর দিয়ে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজের ভিডিও আমরা দেখেছি। আমার হৃদয় যেন থেমে গিয়েছিল—আপনি জানেন কয়েকটি তিমিকে ধাক্কা দিচ্ছে তারা।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিমিগুলো সবসময় এসব উচ্চ শব্দ করা জাহাজ থেকে সরে যায় না। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের ক্রিস জনসন বলেছেন, কিছু নীল তিমি জাহাজ কাছে এলে শুধু পানির নিচে ডুব দেয়।
উপকূল থেকে আরও দূরে জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণ, জাহাজের গতি কমানো এবং কাছাকাছি তিমির উপস্থিতি সম্পর্কে জাহাজগুলোকে সতর্ক করতে রেডিও সতর্কবার্তা বা অ্যাপ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন গবেষকেরা।




