বাধ্যতামূলক হচ্ছে আরবি ভাষা
আলজেরিয়ায় বিদেশি পাঠ্যক্রম নিষিদ্ধ

সংগৃহীত ছবি
উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। এ মহাদেশের বৃহত্তম দেশটি ১৮৩০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ছিল ফ্রান্সের কলোনি। স্বাধীনতা অর্জনের পরেও আলজেরিয়ার অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুসরণ করে ফরাসি পাঠ্যক্রম। মিডেল ইস্ট আইয়ের শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলজেরিয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠদান বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। সঙ্গে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে আরবি ভাষা। দেশটিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থানীয়করণের পথে এটি একটি নতুন মাইলফলক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬-৩১০ নং ডিক্রির মাধ্যমে বেসরকারি স্কুলগুলোর স্বীকৃতি, কার্যক্রম পরিচালনা এবং তদারকির ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে কঠোর শর্তাবলী। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানটি হলো বিদেশি পাঠ্যক্রম নিষিদ্ধ করা। এটির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনানুষ্ঠানিকভাবে চালু থাকা ফরাসি পাঠ্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ভাষা ছাড়া অন্য সব বিষয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে আরবি ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে। ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুলগুলোকে অবশ্যই জাতীয়ভাবে অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার করতে হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র প্রস্তুত করতে হবে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় পরীক্ষার জন্যই। এই আদেশে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশি সংস্থা বা স্কুলের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতামূলক চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারবে না।
বেসরকারি স্কুলগুলোকে এই নিয়ম মেনে চলার জন্য দেওয়া হয়েছে তিন বছর সময়। এ আইন মানতে ব্যর্থ হলে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এরমধ্যে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত। বেসরকারি শিক্ষার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার এই উদ্যোগটি রাষ্ট্রের একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য হলো ভাষাগত সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করা এবং ফরাসি ভাষার প্রভাব হ্রাস করা। এ ভাষাকে অনেকেই দেখে থাকেন ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার হিসেবে। ২০২৩ সালে, ‘ফরাসি শিক্ষা বিষয়ক ফরাসি সংস্থা’-এর সঙ্গে যুক্ত স্কুলগুলোকে তাদের লেবেলিং ব্যবস্থা থেকে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তাদের বন্ধ করে দেওয়া বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও।
আলজেরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় ফরাসি ভাষার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে দেশটির সঙ্গে প্যারিসের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা। সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, বিদেশি কর্মসূচিগুলো বন্ধ হয়ে গেলে অনেক শিক্ষার্থী পড়তে পারেন বড় ধরনের সংকটে। কেননা দেশটিতে হাজার হাজার পরিবার নির্ভর করে ফরাসি পাঠ্যক্রমের ওপর। শিক্ষকদের মতে, যেসব শিক্ষার্থী প্রায় পুরোপুরি ফরাসি ভাষায় পড়াশোনা করেছে, তাদের পক্ষে এখন জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়ে পড়েছে কঠিন।



