লন্ডনে উগ্র ডানপন্থি সমাবেশ
ইসলামবিরোধী মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল

মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্তিনা গোমেজ। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে একটি উগ্র ডানপন্থি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের এক ইসলামবিরোধী ইনফ্লুয়েন্সারকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তার ভ্রমণ অনুমোদন বাতিল করেছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
গত সপ্তাহেই যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) পেয়েছিলেন ভ্যালেন্তিনা গোমেজ নামের এ ইনফ্লুয়েন্সার। আগামী ১৬ মে উগ্র ইসলামবিরোধী নেতা টমি রবিনসন (আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন) আয়োজিত ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ সমাবেশে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
গোমেজের উপস্থিতি ‘জনস্বার্থের পরিপন্থি’ বিবেচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার অনুমোদন বাতিল করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
২৬ বছর বয়সী গোমেজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে একই সমাবেশে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাজ্য দখল করে নিচ্ছে ‘ধর্ষক মুসলমানরা’। আরও বলেছিলেন তিনি, ‘ইংল্যান্ড, তারা তোমাদের অস্ত্র কেড়ে নিয়েছে, তোমাদের নারীদের ধর্ষণ করেছে... তোমাদের আর হারানোর কিছু নেই। এখন হয় তোমরা লড়াই করবে, নয়তো এই ধর্ষক মুসলমান আর দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকরা দেশ দখল করবে।’ পুলিশকে উদ্দেশ্য করে জানিয়েছিলেন তিনি, ‘আমি চাই তোমরা আদেশ মানা বন্ধ করো, কারণ তোমরা জানো, তোমাদের দেশকে ধর্ষণের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা হচ্ছে, আর তোমাদের তা উপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।’
ওই সমাবেশে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, যা ব্রিটেনের ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় উগ্র ডানপন্থি সমাবেশগুলোর একটি। এতে বিভিন্ন উগ্র বক্তা ছাড়াও ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়েছিলেন ইলন মাস্ক, যার ভাষাকে সে সময় ‘বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা করেছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানাচ্ছে, মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার আমরা স্বীকার করি। তবে ঘৃণা ও উগ্রবাদ ছড়ানোর অধিকার এর মধ্যে পড়ে না।
নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর, এক্সে লিখেছেন গোমে , ‘আমি নৌকায় করে ইংল্যান্ডে আসছি। তারা আমাকে নিষিদ্ধ করতে পারে, কিন্তু সত্যকে নয়। ১৬ মে দেখা হবে।’ সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিওতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বর্ণবাদী ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। তার দাবি, ধর্ষণ বা হত্যা করতে আসছেন না বলেই দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
তার প্রবেশ ঠেকাতে আগে থেকেই চাপ ছিল। ক্রসবেঞ্চ পিয়ার শাইস্তা গোহির এক্সে লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উচিত একই মানদণ্ড প্রয়োগ করে ভ্যালেন্তিনা গোমেজকে প্রবেশাধিকার না দেওয়া।’
সমালোচনা করে জানিয়েছিল মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনও, এই সিদ্ধান্তে বাকস্বাধীনতা প্রয়োগে ‘স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড’ ফুটে উঠেছে এবং এটি জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাদের ভাষ্য, ‘অন্যান্য ধর্ম নিয়ে বক্তব্যের কারণে অনেককে প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছে। এই অসামঞ্জস্যতা প্রশ্ন তোলে: কার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, আর কার নয়।’
ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি পান কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া খ্রিস্টান গোমেজ। গত বছর কোরআনের একটি অনুলিপি পুড়িয়েছিলেন তিনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে দিয়েছিলেন ইসলাম নির্মূলের ঘোষণাও। কংগ্রেস নির্বাচনের প্রচারে বলেছিলেন তিনি, ‘টেক্সাসে ইসলাম শেষ করতে চাই’ এবং মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘৫৭টি মুসলিম দেশের যেকোনো একটিতে চলে যাও।’
এদিকে, একই সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা বলে সমালোচনার মুখে পড়েছেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব শ্যারন ওসবার্ন। ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন তিনি, ‘মিছিলে দেখা হবে।’ এর জেরে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে গৃহহীনদের সহায়তাকারী সংস্থা সেন্টার পয়েন্ট।



