হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইউএনডিপি
নতুন বাণিজ্য পথ প্রয়োজন আরব দেশগুলোর

ছবি: রয়টার্স
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে তেহরানের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে হরমুজ প্রণালি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্য পথের কৌশলগত ব্যবহারে প্রভাবিত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাত। দুই দেশের সংঘাতে প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা হয়নি হরমুজ প্রণালি নিয়ে। এখনো অবরুদ্ধ আছে এ জলপথ। হামলা হচ্ছে জাহাজে জাহাজে। আরব রাষ্ট্রগুলোর জন্য জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি সংস্থার (ইউএনডিপি) আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক আবদুল্লাহ আল-দারদারি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি থাকুক না থাকুক, এ অঞ্চলের প্রয়োজন একটি নতুন বাণিজ্য পথের। শুক্রবার আরব নিউজের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আবদুল্লাহ আল-দারদারি রিয়াদে সফর করেন। সেসময় উপসাগরীয় অঞ্চলটি পড়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী হয়েব যায় বন্ধ। সেই সফরের সময় গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে একটি ধারণা মাথায় আসে আল-দারদারির। সেই ধারণায় এখন রূপ নিয়েছে একটি যৌথ উদ্যোগে। এটির মূল লক্ষ্য, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই নৌপথটিকে এড়িয়ে পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট গড়ে তোলা। আরব নিউজকে আবদুল্লাহ আল-দারদারি বলেছন, ‘এই ধারণার সূত্রপাত হয় এপ্রিল মাসে আমার রিয়াদ সফরের সময়, যখন জিসিসি-র সঙ্গে আমার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল।‘ আল-দারদারির মতে, এই সংকট এমন একটি ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা এই অঞ্চলের বহু দশক আগেই পূরণ করা উচিত ছিল। তার ভাষ্য, ‘আমি সত্যিই অবাক হচ্ছি, হরমুজ প্রণালীর বিকল্প নিয়ে ভাবার জন্য আমরা কেন ৪৭ বছর অপেক্ষা করলাম?’ তার মতে, দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য রয়েছে এই অঞ্চলের বৈচিত্র্যকরণ, বাণিজ্য, উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর মধ্যে। আল-দারদারি বলেছেন, ‘আমরা চাই হরমুজ বাণিজ্য ও চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকুক, তবে এই অঞ্চলের প্রয়োজন সংযোগ বৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি গড়ে তোলা।'
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন। এটি দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলো থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে সক্ষম। তবে পাইপলাইনটি পূর্ণ সক্ষমতায় চললেও, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন যে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রবাহিত হতো, তার কেবল একটি অংশই এর মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব।



