৩০ অক্টোবর ইতালিতে সাধারণ ধর্মঘট, মাঠে নামছেন শ্রমিক-শিক্ষার্থীরা

ছবি: রয়টার্স
ইতালিতে আগামী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে একাধিক শ্রমিক ইউনিয়ন। বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয়ের বিরোধিতাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঘোষণা করা হয়েছে এ কর্মসূচি। আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনও যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে অক্টোবরের শেষ শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র ও জনপরিষেবায় বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার (এএনএসএ) ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ অক্টোবরের সাধারণ ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভও সামনে আসছে। 'ইউনিওনে সিন্ডাকালে দি বেসে' (ইউএসবি)-সহ বিভিন্ন তৃণমূলভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনের ডাকা এ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিকদের অধিকার এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগের দাবিকে। তুরিনের শিক্ষার্থীরাও শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ধর্মঘটের অন্যতম উদ্যোক্তা 'ইউনিওনে সিন্ডাকালে দি বেসে' (ইউএসবি)-এর ঘোষণায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের নিয়ে ৩০ অক্টোবর দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। অথচ সেই অনুপাতে শ্রমিকদের আয় বাড়ছে না।
এ পরিস্থিতিতে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ইউএসবি-এর ঘোষণায় যুদ্ধ, পুনরায় অস্ত্রসজ্জা ও সামরিকীকরণের বিরোধিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি অবস্থান নিয়েছে বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোকে যুদ্ধ ও অস্ত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও।
ইতালির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ধর্মঘট ক্যালেন্ডারে ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বিমান পরিবহনে চব্বিশ ঘণ্টার ধর্মঘট এবং রেল পরিষেবায় ২৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ৩০ অক্টোবর রাত ৮টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত কর্মবিরতির কর্মসূচি তালিকাভুক্ত রয়েছে। স্থানীয় গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মসূচি ও সময়সূচি অনুযায়ী পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।
তবে ধর্মঘটের কারণে সব পরিবহন পরিষেবা বন্ধ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কর্মসূচি, পরিবহন খাতের বিধিনিষেধ এবং ন্যূনতম পরিষেবা বজায় রাখার নিয়মের কারণে পরিস্থিতি অঞ্চল ও সংস্থাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ যুক্ত হওয়ায় ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তুরিনসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শ্রমিক-শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার দাবিতে যৌথ আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা উঠে এসেছে।
আয়োজকদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং সামরিক ব্যয়ের পরিবর্তে জনকল্যাণমূলক খাতে বেশি অর্থ বরাদ্দ করা।
তবে প্রতিটি শহরে বিক্ষোভের স্থান, সময় এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য জানতে স্থানীয় আয়োজকদের পরবর্তী ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ৩০ অক্টোবরের সাধারণ ধর্মঘট ইতালিতে শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দাবি, যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে একত্রিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে। ধর্মঘটের কারণে রেল, বিমান, স্থানীয় গণপরিবহন এবং অন্যান্য পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চূড়ান্ত কর্মসূচি, অংশগ্রহণের মাত্রা এবং সরকারি বিধিনিষেধের ওপর।



