রোনালদোকে মিস করবে গোটা বিশ্ব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গত রাতে পর্তুগাল ও স্পেনের ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বফুটবলের অন্যতম মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন। যদি আমরা দেখি, গত ২০ বছরে আরেকজন মহাতারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে সমান্তরালে দুজন লড়াই করেছেন আন্তর্জাতিক এবং ক্লাব ফুটবলে। বর্ণাঢ্যময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা তার মনের মতো হলো না। একটা আক্ষেপ সঙ্গী করেই বিদায় নিলেন রোনালদো। পর্তুগাল ১-০ গোলে স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। আমরা দেখেছি তাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে।
তার ফুটবল ক্যারিয়ার যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখব যে ক্লাব এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগালের হয়ে তার অনেক অর্জন রয়েছে। শুধু বিশ্বকাপটাই জয় করা হয়ে ওঠেনি। এর বাইরে ক্লাব ফুটবলে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা ছয়বারের টপ স্কোরার হয়েছেন। পর্তুগাল ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার নেতৃত্বে। এরপর ব্যাক টু ব্যাক দুবার ইউরোপিয়ান নেশনস লিগও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পর্তুগালের হয়ে মেজর ট্রফি বলব আমি এই তিন ট্রফিকেই।
ক্লাব ফুটবলে তো তার রেকর্ড আমরা সবাই জানি। কোনো না কোনো সময় আপনাকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিতেই হবে এবং সে অবসর কখনো হয়তো খুব সুখকর হয় আবার কখনো খুব কষ্টকর, বেদনাদায়ক হয়। রোনালদোর ক্ষেত্রে একটা আক্ষেপ অবশ্যই থেকে যাবে বিশ্বকাপ জিততে না পারায়। তবে এটাও সত্যি যে শুধু বিশ্বকাপ না জিতলেই একজন গ্রেটেস্ট প্লেয়ারের নাম তালিকায় থাকবে না, বিষয়টা আমি মোটেই সেভাবে দেখি না। পৃথিবীতে এমন অনেক গ্রেট প্লেয়ার আছেন, যারা কখনো বিশ্বকাপ স্পর্শ করেননি। বিশ্বকাপ না জিতেও সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। এভাবেই রোনালদোর নামও থেকে যাবে সবসময়।
পর্তুগালের গোল্ডেন জেনারেশন যাদের আমরা বলি, সেই লুইস ফিগো কিংবা রুই কস্তাদের প্রজন্ম, এর পরই রোনালদোর আবির্ভাব। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি সারা বিশ্বের সব ফুটবল আমুদে দর্শকের পাশাপাশি বাংলাদেশেও একটা বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন। এর আগে কিন্তু কোনো পর্তুগিজ খেলোয়াড়ের এ ধরনের ফ্যানবেজ ছিল না। এটিও তার অনন্য এক কীর্তি।
বিশ্বকাপের আসরে একজন পর্তুগিজ হিসেবে সর্বোচ্চ ১১ গোল করা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ১৩৬ গোলের মতো রেকর্ডগুলো তার ক্যারিয়ারের বিশাল অর্জন। গত ২০ বছরে তিনি বিশ্ববাসীকে আনন্দ দিয়েছেন তুখোড় পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে এবং আমিও তাদের মধ্যে একজন।
বিশ্ববাসী আগামীতে তার ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স দেখবে। তিনি হয়তো আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে খেলা চালিয়ে যাবেন। তবে পর্তুগালের জার্সিতে তার সেই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স আর কখনোই দেখা যাবে না। হয়তো যুগের অবসান ঘটল। তবে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় অবশ্যই তার নাম থাকবে ওপরের দিকেই এবং অবশ্যই ফুটবল আমুদে দর্শক, তার ব্যক্তিগত সমর্থক, কিংবা যারা তার সমর্থক নন— তারাও তাকে মিস করবেন। রোনালদোর বিদায়ের আগের রাতে আরেক মহাতারকা নেইমার জুনিয়র শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন ব্রাজিলের হয়ে। তার বিদায়টাও সুখকর হয়নি। ব্রাজিল নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে। পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তিনি। আমরা যেটাকে বিউটি অব ফুটবল বলি, শৈল্পিক ফুটবল খেলার কথা আমরা যখন বলি, তখন কিন্তু নেইমারের নামটা চলে আসে। তার টেকনিক্যাল স্কিল, বল নিয়ে কারিকুরি যে কত দৃষ্টিনন্দন ছিল। সারা বিশ্বে শুধু ব্রাজিল নয়, অন্য দলের সমর্থকরা বা অন্য খেলোয়াড়ের সমর্থকরাও সেটি উপভোগ করেছেন।




